Mawlana Selim Hossain Azadi

কী বলেছেন আল্লাহ, করছি কী আমরা- মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

cropped-FIR_1666.jpg

আল কোরআন এমন একটি গ্রন্থ, যে গ্রন্থে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি এবং অবনতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অতীতের জাতিগুলো ঈর্ষণীয় প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী হয়েও কেন ধ্বংস হয়ে গেছে এ সম্পর্কেও কোরআন সবিস্তারে আলোচনা করেছে। উম্মতে মুহাম্মাদী যেন আগের জাতির মতো ভুল না করে— মূলত এ কারণেই আগের উম্মতদের আলোচনা বারবার উচ্চারিত হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য! অতীতের উম্মতদের ধ্বংসকারী সব আমলই উম্মতে মুহাম্মাদীর মাঝে আজ বাসা বেঁধেছে। এমনই একটি ধ্বংসকারী কাজ হলো ওজনে কম দেওয়া। ওজনে কম দেওয়ার কারণে অতীতে অনেক জনগোষ্ঠীকে আল্লাহতায়ালা ধ্বংস করে দিয়েছেন। হজরত শোয়াইবের (আ.) জাতির কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা অন্যান্য পাপের সঙ্গে ওজনে কম দেওয়ার পাপে সীমা ছাড়িয়ে যায়। এ কারণে আল্লাহ আজাব দিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মাদায়েনবাসীর কাছে তাদের ভাই শোয়াইবকে পাঠিয়েছি। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের রবের সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এসে গেছে। কাজেই ওজন ও পরিমাপ পুরোপুরি দাও।’ (সূরা আরাফ : ৮৫) শোয়াইবের (আ.) উম্মত তার কথা শোনেনি। আল্লাহতায়ালা তাদের কঠিন আজাব দিলেন। সূরা আরাফের ভাষায়— ‘সহসা একটি প্রলয়ঙ্করী বিপদ তাদের পাকড়াও করল। তারা নিজেদের ঘরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।’ (সূরা আরাফ : ৯১।)

বিশ্বব্যাপী চোখ বুলালে দেখা যায়, আজ ওজন-পরিমাপে কম দেওয়ার চর্চায় বেশ এগিয়ে রয়েছি আমরা। কেউ মাল কম দিয়ে, কেউ কাজে সময় কম দিয়ে অর্থাৎ যে যেভাবে পারে প্রাপ্য বস্তু কম দেওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত রয়েছে। এদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যারা মাপে কম দেয়, তাদের জন্য দুর্ভোগ। এরা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণমাত্রায় নেয় এবং যখন মেপে দেয় তখন কম করে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে? সেই মহাদিবসে যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে।’ (সূরা মুতাফফিফিন : ১-৬)। যারা ওজনে কম দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তারা কি কোরআনের এ আয়াত বিশ্বাস করে না— আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন দাঁড়িপাল্লা। যাতে তোমরা সীমা লঙ্ঘন না কর দাঁড়িপাল্লায়। তোমরা সঠিক ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিও না।’ (সূরা রহমান : ৭-৯)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ণ করে দাও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে। আমরা কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দিই না।’ (সূরা আনআম : ১৫২)।

সম্প্রতি আমাদের দেশে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ নিয়ে নানান ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, গরিবদের চাল ধনীরা খেয়ে ফেলছে এবং সঠিক ওজনে চাল বিতরণ হচ্ছে না। সারা দেশের চিত্রই এমন। শুধু চাল নয়, সব পণ্যই কম দেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে আমাদের দেশে। এর ভয়াবহতা সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো জনগোষ্ঠী মাপ ও ওজনে কম দেয়, তখন তাদের দুর্ভিক্ষ, খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি ও অত্যাচারী শাসকের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়।’ (বুখারি)। রসুল (সা.) আরও বলেন, কোনো জাতি মাপে বা ওজনে কম দিলে তাদের জন্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে। (কুরতুবি) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে জাতির মধ্যে খেয়ানত অর্থাৎ আত্মসাতের ব্যাধি বেড়ে যায়, সে জাতির অন্তরে আল্লাহ শত্রুর ভয় সৃষ্টি করে দেন। যে জাতির মধ্যে ব্যভিচার বিস্তার লাভ করে, সে জাতির মধ্যে মৃত্যুহার বেড়ে যায়। যে জাতি মাপে ও ওজনে কম দেয়, তাদের রিজিক উঠিয়ে নেওয়া হয়। (মুওয়াত্তা মালেক)।

দেশজুড়ে যেভাবে ওজনে কম দেওয়া এবং কাজে ফাঁকি দেওয়ার সংস্কৃতি চর্চা হচ্চে, যে কোনো সময় আল্লাহর শাস্তি আমাদের কাঁধে এসে পড়তে পারে। দরিদ্রতা তো আমাদের প্রধান সমস্যার একটি। এর ওপর যদি দুর্ভিক্ষ শুরু হয় তবে সোনার বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই দরিদ্র ও দুর্ভিক্ষ থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে ওজনে কম দেওয়া থেকে আমাদের বিরত হতে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার যদি কৌশলে মানুষকে পাপ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে তবে আল্লাহর রহমত অবশ্যই তাদের ওপর এবং জনগণের ওপর অঝোর ধারায় বর্ষিত হবে।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখলে প্রতিদান মেলে মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

যিনি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন তিনি মুমিন। মুমিন বান্দাকে উদ্দেশ করে আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর ওপর ভরসা কর। যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হও।’ (সূরা মায়েদাহ : ২৩)। অন্যত্র আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তুমি আল্লাহর ওপর ভরসা কর। তুমি তো স্পষ্ট সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’ (সূরা নমল : ৭৯)। ‘তাওয়াক্কুল’ তথা ‘আল্লাহর ওপর ভরসা’ মানব জীবনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি স্তর। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ইমানের যেসব বিষয় ফরজ বা আবশ্যকীয়, তাওয়াক্কুল তার অন্যতম। তাওয়াক্কুলের সংজ্ঞায় সুফি তাবেয়ি হাসান বসরি (র.) বলেন, ‘মালিকের ওপর বান্দার তাওয়াক্কুলের অর্থ, আল্লাহই তার নির্ভরতার একমাত্র স্থান— একথা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা।’ শায়েখ উছায়মিন (র.) বলেন, ‘কল্যাণ অর্জনে ও অকল্যাণ দূর করার জন্য সত্যিকারভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি আল্লাহতায়ালা যেসব উপায়-উপকরণ অবলম্বন করতে বলেছেন তা অবলম্বন করাকে তাওয়াক্কুল বলে’।

তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব-তাত্পর্য সম্পর্কে তাবেয়ি সাঈদ ইবনু জুবায়ের (র.) বলেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা ইমানের সামষ্টিক রূপ’। ইবনে কায়্যিম (র.) বলেন, ‘বান্দা যদি কোনো পাহাড় সরাতে আদিষ্ট হয় আর যদি সে কাজে সে আল্লাহতায়ালার ওপর যথার্থভাবে ভরসা করতে পারে, তবে সে পাহাড়ও সরিয়ে দিতে পারবে।’ সুতরাং একজন মুমিন তার যাবতীয় কাজে আল্লাহর ওপর ভরসাকে শুধু একটি মুস্তাহাব বিষয় ভাবতে পারে না; বরং তাওয়াক্কুলকে একটি দ্বীনি দায়িত্ব বা আবশ্যিক কর্তব্য বলে মনে করবে। এ সম্পর্কে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (র.) বলেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করা ফরজ। এটি উচ্চাঙ্গের ফরজগুলোর অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহর জন্য ইখলাস বা বিশুদ্ধ চিত্তে কাজ করা ফরজ।

অজু ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতার জন্য গোসলের ব্যাপারে যেখানে আল্লাহতায়ালা একটি আয়াতে একবার বলে তা ফরজ সাব্যস্ত করেছেন, সেখানে একাধিক আয়াতে তিনি তাঁর ওপর ভরসা করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁকে ছাড়া অন্যের ওপর ভরসা করতে নিষেধ করেছেন’।

আল্লাহর ওপর ভরসা করার মানে এই নয় যে, বান্দা তার চেষ্টা-তদবির বন্ধ করে দেবে এবং উপায়-উপকরণ ছেড়ে দেবে। বরং তাওয়াক্কুলের মানে হলো, অন্তর থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা করা, একই সঙ্গে পার্থিব নানা উপায়-উপকরণ ব্যবহার করা এবং পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহই রিজিকদাতা, তিনিই একমাত্র স্রষ্টা, জীবন ও মৃত্যুদাতা তিনিই। তিনি ছাড়া যেমন কোনো ইলাহ বা উপাস্য নেই, তেমনি তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালকও নেই। আল্লামা ইবনে কায়্যিম (র.) বলেন, ‘তাওয়াক্কুলের রহস্য ও তাত্পর্য হলো, বান্দার অন্তর এক আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হওয়া; জাগতিক উপায়-উপকরণের প্রতি অন্তরের মোহশূন্য থাকা, তার প্রতি আকৃষ্ট না হওয়া। কারণ, এসব উপায়-উপকরণের সরাসরি ক্ষতি কিংবা উপকার করার কোনোই ক্ষমতা নেই’।

তাওয়াক্কুলের দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি প্রকৃত অর্থেই আল্লাহর ওপর ভরসা করতে পার, তবে আল্লাহ তোমাদের পাখির মতো রিজিক দেবেন। পাখিরা সকালে খালি পেটে বের হয় আর সন্ধ্যায় ভরা পেটে নীড়ে ফিরে।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)। পাখি যেমন তাওয়াক্কুলের নামে হাত-পাত ছেড়ে দিয়ে বসে থাকে না বরং খুব সকালেই আল্লাহর ওপর ভরসা করে রিজিকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে, তেমনি আমরাও যদি আল্লাহর ওপর ভরসা করে সম্ভাব্য সব উপায়-উপকরণ এবং চেষ্টা-তদবির করি, তবে আল্লাহতায়ালা আমাদের অবশ্যই সফলতা দেবেন। একটি হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, আগে তোমার উট বাঁধ। তারপর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কর। আরেকটি হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে রেলিং ছাড়া ছাদে ঘুমাবে না। কেউ যদি এমনটি করে আর রাতের বেলা ঘুমের ঘোরে ছাদ থেকে পড়ে যায়, তবে এর জন্য আল্লাহর কোনো দায়-দায়িত্ব থাকবে না। (আল আদাবুল মুফরাদ।)

নবীদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁরা সবাই তাওয়াক্কুলের মূর্ত প্রতীক ছিলেন। কেউই কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে বসে থাকেননি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ কোনো জাতির ভাগ্য বদলান না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের ভাগ্য বদলায়।’ (সূরা রা’দ : ১১।) দুঃখজনক হলেও সত্য! একশ্রেণির ধর্মদরদি ব্যক্তি তাওয়াক্কুলকে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার সমতুল্য মনে করেন। যা সম্পূর্ণ ইসলামী চিন্তার বহির্ভূত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুমিন হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

নিজে ভালো হয়ে অন্যের ভালো করি মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর গোলামী ও দাসত্ব করার জন্য। সূরা জারিয়াতের ৫৪নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন— ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন’। অর্থাৎ ‘আমি মানুষ ও জিনকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ এ ইবাদতের অপর নাম নেক আমল বা সৎকাজ। মূলত সৎকাজের জন্যই এ বিশ্বচরাচর এবং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টি করা হয়েছে সুখের উল্লাসময় জীবন এবং দুঃখের চিহ্নস্বরূপ মৃত্যু। সূরা মূলকের ১-২নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি বড়ই মহান ও শ্রেষ্ঠ যাঁর হাতে রয়েছে সৃষ্টিলোকের রাজত্ব। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের ওপর শক্তিমান। তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে নেক আমলের দিক থেকে কে বেশি ভালো। তিনি মহাশক্তিশালী ও ক্ষমাশীল।’

পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহতায়ালা সৎকাজের গুরুত্ব ও তাত্পর্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন। সূরা তীনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে। তারপর বদ আমলের কারণে তাকে পৌঁছে দেই সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থায়। তবে তাদের নয়, যারা ইমান আনে এবং নেক আমল করে। তাদের জন্য তো রয়েছে এমন পুরস্কার, যা কখনো শেষ হবে না।’ (সূরা তীন : ৫-৭)। সূরা আসরে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সময়ের শপথ। প্রত্যেক মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে যারা ইমান আনে, নেক আমল করে, সত্যের পথে দাওয়াত দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয় তারা ক্ষতি থেকে মুক্ত।’ (সূরা আসর : ১-৩।)

সৎকাজের গুরুত্ব সম্পর্কে সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা নেক আমল ও বদ আমলের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নেক আমলের তাত্পর্য এত বেশি যে, কেউ যখন নেক আমলের সংকল্প করে, আল্লাহতায়ালা তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। আর যখন সে তা সম্পন্ন করে তখন তার আমলনামায় দশ থেকে সাতশ নেকি লেখা হয়। (সহি বুখারি ও মুসলিম)।

কেয়ামতের দিন বান্দা তার সামান্য সৎকাজের সম্পর্কেও জানতে পারবে। একটি ছোট সৎকাজও তাকে বড় ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারবে। সূরা যিলযালের ৭-৮নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কেউ যদি অণু পরিমাণ নেক আমল করে তবে সেদিন তা দেখতে পাবে। আবার কেউ যদি অণু পরিমাণ বদ আমলও করে, তবে তাও সে দেখতে পাবে।’ সৎকাজের প্রতিদান সম্পর্কে সূরা ইনফিতারে আল্লাহ বলেন, ‘সৎকাজকারীরা থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে। আর বদ আমলকারীরা থাকবে প্রজ্বলিত আগুনে।’ (ইনফিতার : ১৩-১৪)।

দুনিয়া ও পরকালের জীবনে সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য সৎকাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নিজে সৎকাজ করার পাশাপাশি অন্যকেও সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া খুবই তাত্পর্যপূর্ণ ইবাদত। প্রকৃত অর্থে এটিও একটি সৎকাজ। সূরা আলে ইমরানের ১১০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন— ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধের জন্য।’ অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজের নিষেধ কর। তোমার ওপর যে বিপদ-আপদ আসবে তার জন্য ধৈর্য অবলম্বন কর। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ কাজ।’ (সূরা লোকমান : ১৭)।

বিশ্বনবী (সা.) নিজেও ছিলেন সৎকাজের আদেশদাতা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সৎ মানুষ। নবুয়তের আগে হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠা করে তিনি (সা.) সৎকাজের আদেশ করেছেন। আবার নবুয়তের পরও এর ধারাবাহিতা বজায় রেখেছেন। রসুল (সা.)-এর এ মহান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি সৎকাজের আদেশ করেন এব অসৎ কাজের নিষেধ করেন।’ (সূরা আ’রাফ : ১৫৭)। বর্তমান পৃথিবীতে নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধ করার আমল আবার জারি করতে হবে। তবেই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎকাজের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

হে আল্লাহ মুনাফেক হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করুন মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

ইমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, ‘মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার সবকিছু মনে-প্রাণে বিশ্বাস করাকে ইমান বলে।’ যিনি ইমান গ্রহণ করেন তাকে মুমিন বলা হয়। দুনিয়াজুড়ে মুসলিম মনীষীরা ইমান ও মুমিনের এই সংজ্ঞাই দিয়ে আসছেন। দর্শনশাস্ত্র মতে, ব্যক্তির বিশ্বাস তার কর্মে প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ ব্যক্তির আচরণ ও কর্ম তার বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। আগুন সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস হলো, এটি সব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। হাজার বছর ধরে আগুনের পূজা-অর্চনা করার পরও এক মুহৃর্তের জন্য পুজারিকে শান্তির পরশ দেবে না আগুন। তাই আজ পর্যন্ত কোনো অগ্নিপূজক ভুলেও আগুনের দাহ্য শক্তি পরীক্ষার নামে নিজেকে কিংবা নিজের সম্পদকে তার কাছে সমর্পণ করেনি। এ উদাহরণের পর বলতে চাই, রসুল (সা.) আমাদের কাছে যা কিছু নিয়ে এসেছেন এসব কিছু বিশ্বাসের সঙ্গে কাজে প্রতিফলিত করতে পারলেই আমরা মুমিন হব। পবিত্র কোরআনও তাই বলছে— ‘ইন্নাল্লাজিনা আমানু ওয়া আমিলুস সালিহাত’ অর্থাৎ যারা বিশ্বাস করে এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে’। ‘আল্লাজিনা ইউমিনুনা বিল গায়বি ওয়া ইউকিমুনাস সালাতি’ অর্থাৎ ‘যারা গায়েবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং বিশ্বাসের ফলস্বরূপ গায়েবের প্রভুর নির্দেশ মোতাবেক সালাত কায়েম করে’। এমনিভাবে পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে বিশ্বাস ও কাজের সমন্বয়কেই ইমান বলেছে। এর বিপরীত যারা চলবে তাদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। একদল যারা বিশ্বাস করবে না, তারা কাফের।

আরেক দল যারা বিশ্বাস করবে কিন্তু সেই বিশ্বাসকে কাজে পরিণত করবে না, তারা মুনাফেক-কপট। এ দুই শ্রেণিই চিরদিনের জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তবে মুনাফেক অর্থাৎ যারা শুধু বিশ্বাস করবে কাজে পরিণত করবে না তাদের অবস্থান কাফেরের চেয়েও ভয়াবহ। আল্লাহ বলেন, ‘ইন্নাল মুনাফিকিনি ফিদ দারকিল আসফালি মিনান নার’ অর্থাৎ ‘নিশ্চয় কপট মুনাফেকদের অবস্থান হবে জাহান্নামের তলদেশে।’

প্রিয় পাঠক, এবার কোরআনের কষ্টিপাথরে মিলিয়ে দেখি, আমরা সত্যিই বিশ্বাসী তথা মুমিন হতে পেরেছি কিনা। তার আগে বলে রাখি, এতদিন যারা ভেবে এসেছেন, তোতা পাখির মতো না বুঝে কিছু ‘কালেমা’ পড়লেই বিশ্বাসী তথা ইমানদার হওয়া যায় তাদের ধারণা কোরআনের আলোকে সম্পূর্ণ ভুল। কোরআন বলেছে আল্লাহর সব নবী, পরকালসহ আরও কিছু বিষয় বিশ্বাস করলে এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলেই কেবল একজন মানুষ মুমিনের মর্যাদা লাভ করতে পারবে। আল্লাহ বলেছেন, ‘ওহে তোমরা যারা বিশ্বাস করেছ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের পাওনা ছেড়ে দাও; যদি তোমরা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাসী হয়ে থাক।’ সূরা বাকারার ২৭৮নং আয়াত এটি। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় সুদের ভয়াবহতা উল্লেখ করা হয়েছে। একথাও বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা সুদ ছেড়ে না দাও, তবে আল্লাহ এবং আল্লাহর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হও’। এত কঠিন হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের মানুষ কি সুদ থেকে মুক্ত থেকেছে? অনেক মুসলমানই প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সুদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাহলে এরা কি কোরআনের সুদ সংক্রান্ত আয়াতগুলো বিশ্বাস করেনি? সহজ উত্তর, না। যদি বিশ্বাসই করত তবে অবশ্যই তারা সুদের সঙ্গে যুক্ত হতো না। অন্তত নিজ অবস্থান থেকে সুদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুললেও নিজেকে কমজোর মুমিন পরিচয় দিতে পারত। এ মুসলমানরাই আবার নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ করে। এদের সম্পর্কেই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘পাকা অঙ্গীকার নেওয়ার পরও কি তোমরা আল্লাহর কিতাবের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে আর কিছু অংশ করবে অস্বীকার-অমান্য! তোমাদের মধ্যে যারা এমনটি করবে তাদের প্রতিদান এ শাস্তি ছাড়া আর কিছুই নয় যে, দুনিয়ার জীবনে তাদের গ্রাস করবে হীনতা-লাঞ্ছনা-গঞ্জনা। আর কেয়ামতের দিন নিক্ষেপ করা হবে কঠিন আজাবে।’ (সূরা বাকারা : ৮৫)।

এবার আসুন জাকাত প্রসঙ্গে। ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো জাকাত। এদেশের অনেক ধনী মুসলমান বছরে একবার জাকাতের নামে মানবতার সঙ্গে উপহাস করে মাত্র। তাই তো স্বাধীনতার এত বছর পরও এ দেশের পঁচাশি শতাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। জাকাতের নামে উপহাস করেও নিজেদের মুসলমান দাবি করছে। শুধু মুসলমান ভাবতে পারেননি খলিফাতুর রসুল (সা.) আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার রাষ্ট্রে কেউ যদি জাকাতের একটি উটের রশিও দিতে অস্বীকার করে তবে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব।’ এ কথা শুনে ওমর (রা.) বললেন, ‘আবু বকর! রসুল কি বলেননি, যে ব্যক্তি আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করবে তার জীবন ও সম্পদ আমাদের জন্য হালাল নয়?’ আবু বকর বললেন, হাঁ। তবে আল্লাহকে বিশ্বাসের দাবিই হলো আল্লাহর দেখানো পথে চলা। প্রিয় পাঠক, বিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের কাজের অমিলের মাত্র দুটি উদাহরণ দিলাম। এমনিভাবে আমাদের জীবনের পুরোটাই কোরআন এবং বিশ্বাসের বিপরীত। তারপরও আমরা মুমিন তথা বিশ্বাসী কি! আমাদেরই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু আমিনু’ অর্থাৎ ‘ওহে তোমরা যারা নিজেদের বিশ্বাসী বলে দাবি করছ! তোমরা প্রকৃত বিশ্বাসী হও। যেখানে তোমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে কর্মের বৈপরীত্য থাকবে না।’

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

ww.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

ইমান বিকিয়ে দেননি হোসাইন (রা.) মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

হিজরি ৬১ খ্রিস্টাব্দে ১০ মহররম ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে পাপিষ্ঠ এজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের প্রতিবাদে নিজের জীবন উৎসর্গ করে মুসলিম উম্মাহকে শিখিয়েছেন- ‘বাতিলের সামনে মাথা বিলিয়ে দেব, ইমান বিকিয়ে দেব না।’ সে দিন রাজতন্ত্রের জনক কুখ্যাত এজিদের কাছে বায়াত গ্রহণ না করার ফলে যুগ যুগ ধরে বিশ্ব মুসলমান ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক’ হিসেবে স্মরণ করছে ইমাম হোসাইন (রা.)-কে। ইমাম হোসাইন (রা.) খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছেন, পাষণ্ড এজিদের দাবি মেনে নেওয়া মানে হলো ন্যায়-ইনসাফ ও তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী খেলাফতের কবর রচনা করা এবং স্বৈরাচার-জুলুমবাজ শাসনের গোড়াপত্তন ঘটানো। পাপিষ্ঠ এজিদের ক্ষমতারোহণের মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের যে বিষবৃক্ষ রোপণ হয়েছে, তার সুদূরপ্রসারী ফল আজ বিশ্ব মুসলমান ভোগ করছে। শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী হয়েও আজ অশান্তির আগুন জ্বলছে বিশ্ব মুসলমানের ঘরে ঘরে। লাঞ্ছনা আর অপমানের বেড়ি ঝুলছে প্রত্যেক মুসলমানের গলায়। তবুও ঘুম ভাঙছে না কোরআন ভোলা কারবালা ভোলা মিল্লাতে ইবরাহীম উম্মতে মুহাম্মাদীর। যে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নবী পরিবারে দুগ্ধপোষ্য শিশু পর্যন্ত জীবন বিলিয়ে দিল, মুসলমান আজ সে সত্য ভুলে শিয়া-সুন্নিতে ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

কারবালার প্রান্তরে একা দাঁড়িয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) ইয়াজিদ বাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন, কেন তোমরা আমাকে হত্যা করতে চাও? আমি কি কোনো অপরাধ করেছি? এ কথা শুনে ইয়াজিদের সৈন্যবাহিনী বোবার মতো দাঁড়িয়ে রইল। এরপর ইমাম হোসাইন (রা.) বললেন, আমাকে হত্যা করলে আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবে তোমরা? কী জবাব দেবে বিচার দিবসে মহানবীর (সা.) কাছে? এ কথা শুনেও তারা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। আবার ইমাম বললেন, ‘হাল্ মিন্ নাসিরন্ ইয়ানসুরুনা?’ আমাদের সাহায্য করার মতো কি তোমাদের মাঝে একজনও নেই? এ কথা শুনেও ইয়াজিদের সৈন্যরা আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইল। এরপর ইমাম হোসাইন (রা.) যে কথাটি বলেছিলেন তা খুবই হৃদয়স্পর্শী বেদনাবিধুর। ইমামের শেষ আহ্বানটি ছিল— ‘আলাম্ তাসমাও? আলাইসা ফি কুম মুসলিমু?’ আমার কথা কি শুনতে পাও না? তোমাদের মাঝে কি মাত্র একজন মুসলমানও নেই? গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে তা হবে খুবই বেদনাবিধুর। প্রকৃত পক্ষে বোঝা যায় ইমাম হোসাইন (রা.) আসল এবং নকলের পার্থক্যটা পরিষ্কার করে দেখিয়ে গেছেন। তাঁকে ও তাঁর সঙ্গী সাথীদের যারা শহীদ করতে এসেছিল, যারা তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল তারা ছিল নকল মুসলমান। তার একজনও খাঁটি মুসলমান ছিল না।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

ধৈর্যশীলদের জান্নাত দান করা হবে মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

দুনিয়ার এ জীবন আমাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মাত্র। জীবনের বাঁকে বাঁকে পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া এবং পরীক্ষা দিয়ে যাওয়া জীবন সৃষ্টির উদ্দেশ্য। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি বড়ই মহান ও শ্রেষ্ঠ যার হাতে রয়েছে (সৃষ্টিলোকের) রাজত্ব। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের ওপর শক্তিমান। তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন— যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে কে বেশি ভালো। তিনি মহাশক্তিশালী ও ক্ষমাশীল। (সূরা আল-মুলক : ১-২।) মহান আল্লাহ বিভিন্নভাবে আমাদের পরীক্ষা করে থাকেন। কখনো সুখ দিয়ে কখনো দুঃখ দিয়ে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয় ও ক্ষুধা দিয়ে, ধন-সম্পদ ও শস্যের অভাব দিয়ে, আর জীবনের দুঃসংবাদ দিয়ে। সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।’ (সূরা বাকারা : ১৫৫)।

জীবনের প্রতিটি বাঁকে সুখে-দুঃখে স্মরণ রাখতে হবে দয়াময় প্রভুকে। সুখের সময় আনন্দে আত্মহারা হয়ে প্রভুকে ভুলে গেলে চলবে না। আবার দুঃখের সময়ও কষ্টে মুষড়ে পড়ে ধৈর্যহীন বান্দার পরিচয় দেওয়া যাবে না। সুখের সময় কৃতজ্ঞ আর দুঃখের সময় চরম ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া অনুগত বান্দার একান্ত কর্তব্য। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কখনো কোনো বিপদ এলে যারা বলে, আমরা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে— এদের ওপর তাদের প্রভুপ্রেম ও দয়া অঝোর ধারায় বর্ষিত হয়। আর জেনে রাখ! এরাই সঠিক সুপথগামী।’ (সূরা বাকারা : ১৫৬-৫৭)। সবরের আলোচনায় প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসির (র.) বলেন, ‘বিপদে-আপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য অবলম্বন করা ওয়াজিব।’ দলিল হিসেবে তিনি এ আয়াত পেশ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘ওহে তোমরা যারা ইমান এনেছ! তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাও; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সূরা বাকারা : ১৫৩)। হাদিস শরিফে এসেছে ‘রসুল (সা.) কোনো মুসিবতে পড়লে হা-হুতাশ করতেন না। তিনি (সা.) সঙ্গে সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ (ইবনে কাসির।)

সবর তথা ধৈর্য অবলম্বনের মর্যাদা অনেক। ইমাম জায়নুল আবেদীন (র.) ধৈর্যশীলদের মর্যাদা ও সম্মান সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে কাসির তার তাফসিরে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ‘কেয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে— ধৈর্যশীলরা কোথায়! আপনারা বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যান। ঘোষণা শুনে একদল লোক বেহেশতের পথে রওনা করবে। ফেরেশতারা বলবে, আপনারা কারা? কোথায় যাচ্ছেন? তারা বলবে, আমরা ধৈর্যশীল বান্দা; জান্নাতে যাচ্ছি। ফেরেশতারা বলবে, এখনো তো হিসাব-নিকাশ হয়নি। ধৈর্যশীল বান্দারা বলবে, আমাদের হিসাবের আগেই জান্নাতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার ফেরেশতারা বলবে, তাহলে আপনারা তো খুবই মর্যাদান ও আমলদার বান্দা। আপনাদের সেই আমল সম্পর্কে বলুন যার বিনিময়ে এ গৌরবময় ফলাফল অর্জন করেছেন। তারা জানাবেন, দুনিয়ার জীবনে আমরা সবরের জীবনযাপন করেছি। আল্লাহর পথে চলতে গিয়ে ও আল্লাহর বিধান মানতে গিয়ে অনেক ধরনের ত্যাগ ও বিপদের মুখোমুখি হয়েছি। এর বিনিময়ে আমরা কখনো অভাব-অভিযোগ করিনি। সব সময় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। এসব শুনে ফেরেশতারা বলবেন, মারহাবা! আপনাদের আমলের যথার্থ প্রতিদানই আপনারা পেয়েছেন।’ এদের সম্পর্কেই আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান বিনা হিসাবে দেওয়া হবে।’ (সূরা আজ-জুমার : ১০)। ধৈর্যের প্রতিদান সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন মুমিন বান্দার কোনো আপনজনকে মৃত্যু দিই আর সে ধৈর্য অবলম্বন করে, তখন আমার কাছে তার একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (সহি বুখারি)। ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতাময় মুমিনের জীবন। তাই তো রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের জীবন কতই না আশ্চর্য এবং চমৎকার জীবন! যখন সে সুখে থাকে তখন আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে। আর যখন সে বিপদে পড়ে তখন ধৈর্য ধারণ করে। এ দুটিতেই তার দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ রয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ।) আজকের বিশ্বের দিকে তাকালে খুব আফসোস হয়। চারদিকে এত মুমিন-মুসলমান, অথচ ধৈর্যশীল বান্দা পাওয়া কঠিন। সব মুসলমান নিজেকে কোরআনের অনুসারী দাবি করছে; কিন্তু কোরআনে বর্ণিত গুণাবলির সমাহার নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। মুমিন জীবনের ধৈর্য পরীক্ষা অনেকভাবে হতে পারে। মিথ্যার বাজারে সত্যের পথে কোনোরকম টিকে থাকাও এক ধরনের ধৈর্য। হারামের সয়লাবে হালাল পথে জীবিকা অর্জন এবং এর ওপর খুশি থাকাও ধৈর্যের পরিচয়। মুসলমান ভাইদের থেকে কষ্ট পেয়েও সন্তুষ্ট থাকার নাম ধৈর্য। দাওয়াতের কাজে গিয়ে গালি খেয়ে হাসি দিয়ে বরণ করার যোগ্যতাও ধৈর্যের মাধ্যমেই অর্জন হয়। কিন্তু আজকের দায়ীদের মধ্যে ধৈর্যের পরিচয় কোথায়? মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং ধৈর্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

জীবনজুড়ে জারি থাকুক হজের আমল মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরছেন হাজীরা। সদ্য হজ ফেরত হাজীদের মর্যাদা অনেক বেশি। তাদের আত্মায় এবং গায়ে লেগে আছে মক্কা-মদিনার সুঘ্রাণ। দেশে ফেরার পরও দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ সৌরভ ঘ্রাণ ছড়াবে। সাধারণ মানুষ যেন হজ মৌসুমে ফোটা ‘হাজী ফুল’ থেকে খোশবু নিয়ে খোশ নসিবের অধিকারী হতে পারে— তাই প্রিয় নবী (সা.) হাজীদের সঙ্গে সালাম ও মুসাফাহার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাবরানি শরিফে এসেছে, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো হাজীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম বলবে, তার সঙ্গে মুসাফাহা ও মুআনাকা করবে এবং দোয়ার আবেদন করবে। কারণ কবুল হজকারীর সব পাপ আল্লাহ মাপ করে দেন। যে ব্যক্তি হজ থেকে ফিরে এসেছে সে যেন আজই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।’ হজ পালনকারী বিপুল সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। এই সম্মান ও মর্যাদার কথা স্মরণে রেখেই পরবর্তী জীবন আল্লাহর দেখানো পথে চলার দৃঢ় শপথ নিতে হবে।

প্রিয় নবী (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত মাঠ-ঘাটের ধুলাবালি মেখে আসতে পারা অনেক মর্যাদা ও ভাগ্যের বিষয়। জীবনের প্রতিক্ষণে এ কথা স্মরণ রেখে সাধ্যানুযায়ী কল্যাণের পথে চলতে হবে। হজ-পরবর্তী জীবনে যদি কোনো পরিবর্তন না আসে তাহলে সে হজ কবুল হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়। এ কথা মনে রাখতে হবে, ওয়াদা অনুযায়ী আল্লাহ আপনাকে নিষ্পাপ করে দিয়েছেন। প্রিয় নবী (সা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ীও আপনি এখন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ। আপনার কলব এখন আয়নার মতো স্বচ্ছ, শরতের মতো শুভ্র, মেঘের মতো নরম। এখন প্রতি মুহূর্তে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে, কলবের আয়নায় যেন গুনাহর দাগ না পড়ে। সুফি সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস শোনাচ্ছি। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আদম সন্তান একটি স্বচ্ছ-সুন্দর-শুভ্র-দাগহীন কলব নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। যখন সে একটি গুনাহ করে, কলবের আয়নায় একটি দাগ পড়ে। গুনাহর দাগে দাগে একসময় ওই আয়না তার শুভ্রতা-স্বচ্ছতা হারিয়ে ফেলে।’ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কোনো গুনাহ যদি হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে নিবেন। বাকি জীবন আল্লাহ ও তাঁর রসুলের (সা.)-এর দেখানো পথে চলতে পারাই হজের সার্থকতা।

হজ থেকে ফিরে আসার পর একজন হাজীর অবশ্যিক কর্তব্য হচ্ছে, সে তার ধর্মের হেফাজত করবে, পূর্ণতার দিকে লক্ষ্য রাখবে, এর কোনো অংশ ছুটে যাওয়া কিংবা বাদ পড়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি যত্নবান হবে। তাই একজন হাজীকে যাবতীয় ফরজ এবং ওয়াজিব সঠিকভাবে আদায় করার পাশাপাশি আল্লাহ কর্তৃক নিষেধকৃত বিষয়াদি ত্যাগ করে আমৃত্যু আল্লাহর দীনের ওপর দৃঢ় ও অবিচল থাকতে হবে।

হজের পর একজন মুমিন যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দেবেন তা হলো, সে নিজের বিষয়ে বার বার ভাববে এবং আত্মসমালোচনা করবে, নিজের আমলের হিসাব নিজে নিবে। অনেককে দেখা যায়, হজের মতো তাত্পর্যপূর্ণ একটি ইবাদত সম্পন্ন করে আসার পরও নফসের প্রবঞ্চনা ও শয়তানের প্রতারণার শিকার হয়ে ইসলাম ও ইসলামী আদর্শ থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত এ অবস্থায়ই মৃত্যু তার কাছে এসে উপস্থিত হয়। হে আল্লাহর ঘরের হজ সম্পাদনকারী! আপনি তার মতো হবেন না যে নিজ পরিশ্রমে অত্যধিক কষ্ট করে সুতা কাটে তারপর নিজেই তা ছিঁড়ে ফেলে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালা বান্দাকে সতর্ক করে বলেন, ‘তোমাদের অবস্থা যেন সেই মহিলার মতো না হয়, যে নিজ পরিশ্রমে সুতা কাটে এবং তারপর নিজেই তা ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেলে।’ (সূরা নাহল, আয়াত ৯২)।

একজন হাজীকে স্রষ্টার সৃষ্টির কল্যাণে সদা নিয়োজিত থাকতে হবে। এ দেশ ও মাটিকে ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসতে হবে দেশের মানুষকে। তাদের কল্যাণে নিজের মেধা ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। খেয়ে না খেয়ে চোখের জল আর পেটের জ্বালায় দিন কাটছে। এদের চোখের জল দূর করার দায়িত্ব হাজীদের বহন করার চেষ্টা করতে হবে।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

কোরবানি একমাত্র আল্লাহর জন্য মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

‘কোরবানি’ শব্দের অর্থ উৎসর্গ করা, উপঢৌকন দেওয়া, সান্নিধ্য লাভের উপায়, ত্যাগ করা, পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়া। আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কোরবানি করার উদ্যোগ গ্রহণের ঘটনার মাধ্যমেই কোরবানির তাত্পর্য লুকিয়ে রয়েছে। পবিত্র কোরআন থেকে জানা যায়, স্বপ্নে আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এবং নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সম্মতিতে হজরত ইবরাহিম (আ.) কোরবানি করার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে মিনার একটি নির্জন স্থানে যান এবং তার চোখ বেঁধে মাটিতে শুইয়ে দেন। অতঃপর কোরবানি করার জন্য পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে উদ্যত হন। পিতা-পুত্রের এই অপরিসীম ত্যাগে মহান আল্লাহতায়ালা খুশি হন এবং হজরত ইসমাইলকে (আ.) বাঁচিয়ে দেন। কারণ ইসমাইল (আ.)-এর রক্ত ঝরানো আল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল না। আল্লাহ দেখতে চেয়েছেন, ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মা আল্লাহর রাহে ত্যাগের জন্য প্রস্তুত কিনা। ইবরাহিম (আ.)-এর এ ঘটনা আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে মুমিনদের স্মরণ ও শিক্ষার জন্য প্রতীকী কোরবানির বিধান দিয়ে জাগিয়ে রেখেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কোরবানির একটি নিয়ম ঠিক করে দিয়েছি যাতে আমি তাদের জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলোর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (হাজ, ২২:৩৪।)

তবে কোরবানির এ নিয়ম শুরু হয়েছে আরও আগ থেকেই। মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই কোরবানির বিধান ছিল। প্রথম নবী ও প্রথম মানব হজরত আদমের (আ.) সময় কোরবানির প্রথা প্রচলিত ছিল। আবুল ফিদা হাফিজ ইবন কাসির দামেস্কির (র.) লেখেন, ‘আদম (আ.) তার দুই ছেলে হাবিল এবং কাবিলকে কোরবানি করার আদেশ দিয়ে নিজে হজ করার জন্য মক্কায় চলে যান। আদম (আ.) চলে যাওয়ার পর তারা তাদের বকরি কোরবানি করেন। হাবিল একটি মোটাতাজা বকরি কোরবানি করেন। তার অনেক বকরি ছিল। আর কাবিল কোরবানি দেন নিজের উৎপাদিত নিম্নমানের এক বোঝা শস্য। তারপর আগুন হাবিলের কোরবানি গ্রাস করে নেয়। আর কাবিলের কোরবানি অগ্রাহ্য করে।’ (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/২১৭)। এ ঘটনাটি পবিত্র কোরআনে এভাবে বলা হয়েছে— ‘আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত তুমি তাদের যথাযথভাবে শোনাও, যখন তারা উভয়েই কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কবুল হলো না। আল্লাহ তো কেবল মুক্তাকীদের কোরবানিই কবুল করেন।’ (সূরা মায়েদা ৫:২৭)। এখানে কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য মুত্তাকী বা আল্লাহভীতিপূর্ণ পরিশুদ্ধ চিত্ততার কথা বলা হয়েছে। হাবিলের মধ্যে এটা ছিল তাই তার কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে। কিন্তু কাবিলের চরিত্রে এর অভাব ছিল, ফলে তার কোরবানির কবুল হয়নি।

আমাদের যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য আছে তাদের অবশ্যই হাবিল-কাবিলের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষা নিতে হবে ইবরাহিম-ইসমাইল (আ.)-এর ঘটনা থেকেও। প্রথমত. আমরা যাই কোরবানি করি না কেন তা যেন হয় লৌকিকতামুক্ত। কোরবানি শুধু হবে আল্লাহর জন্য। অনেকে কোরবানির পশু কিনে বলেন, এতে গোশত কম হবে। কিনে ঠকে গেলাম। অথবা বলেন, কোনোরকম রক্ত ঝরাতে পারলেই হলো। ভালো পশুর দরকার নেই। এসব চিন্তা সঠিক নয়। আপনার সামর্থ্য থাকলে আপনি সবচেয়ে দামি পশু কোরবানি করবেন। বিদায় হজে রসুল (সা.) একশতটি উট কোরবানি করেছিলেন। আর কোরবানি যেহেতু আল্লাহর জন্য হবে তাই এতে গোশত কম হবে না বেশি হবে, গরু কিনে ঠগ হলো জিত হলো এসব আলাপ না করাই ভালো।

মনে রাখবেন এ কোরবানি শুধু পশুর গলায় ছুরি চালানোই নয়, নফসের ঘাড়েও ছুরি চালাতে হবে। মহান আল্লাহর হুকুমের কাছে বিনা প্রশ্নে নিজ গর্দান নিচু করে দেওয়ার নামই কোরবানি। নিজের নফসকে যদি আল্লাহর ইচ্ছার সামনে কোরবানি করতে না পারি তবে শত পশুর গলায় ছুরি চালালেও কোনো লাভ হবে না। আমাদের অবশ্যই কোরবানির মূল শিক্ষা ও উদ্দেশ্য সামনে রাখতে হবে। তবেই আমাদের কোরবানি প্রকৃত কোরবানি হবে। যে কোরবানি করেছিলেন সাইয়্যেদেনা ইবরাহিম (আ.)। তিনি বলেছিলেন, ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকী ওয়া মাহয়ায়া ও মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। অর্থ— আমার সব ভালো কাজ এবং ভালোর পথে চলতে গিয়ে যত ত্যাগ-তিতিক্ষা, অত্যাচার-নির্যাতন সব আমার আল্লাহর জন্য। আমার পুরো জীবনই আল্লাহর জন্য এবং মৃত্যুও তার জন্যই।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/editorial/2016/09/09/168847#sthash.59RqyRrj.dpuf
see more

Posted in Article | Leave a comment

বিদায় হজের ভাষণ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিক মুসলমান মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

দশম হিজরির নয় জিলহজ। শুক্রবার। আরাফার মরুপ্রান্তরে এক লাখ চব্বিশ হাজার মতান্তরে এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার মানুষের সমাবেশে দ্বিপ্রহরের খানিক পরে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্য পর্যন্ত আগত, বিগত পৃথিবীর সব ভাষণের মধ্যে এ ভাষণ শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় সর্বোচ্চ। বিশ্ব মানবতার মুক্তির এমন কোনো দিক নেই, যার ছোঁয়া এই মূল্যবান ভাষণে লাগেনি। মূলত বিদায় হজের ভাষণ মহানবী (সা.)-এর তেইশ বছরের নবুয়তি জীবনের মহান শিক্ষার নির্যাস। তা ছাড়া এ ভাষণ মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর থেকে কেয়ামত অবধি বিপদসংকুল পৃথিবীর উদ্ভূত পরিস্থিতি ও সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান। এ ভাষণ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার এক পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তব কর্মসূচি। ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

ভাষণের শুরুতে রসুল (সা.) আল্লাহর প্রশংসা করার পর সমবেত জনতাকে লক্ষ্য করে নিজের রিসালাতের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সাক্ষ্য নেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তোমাদের কাছে তাবলিগ করেছি? সাহাবিরা সবাই বললেন, হ্যাঁ করেছেন। রসুল (সা.) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। এর পর তিনি সবার উদ্দেশে তার ভাষণ দেন। এ ভাষণ রসুল (সা.) এর পক্ষ থেকে তার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অন্যদের যুগ যুগ শুনিয়ে যাচ্ছেন।

ধর্ম, জাতি, বর্ণবৈষম্যের কারণে হারিয়ে যায় মানবিক মূল্যবোধ। শুরু হয় মানুষের মধ্যে হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি। আজকের বিশ্বে তা কেবলই নিত্যনৈমিত্তিক দুঃখ ভাবনা। তৎকালীন আরবেও এমন পরিস্থিতি ছিল। রসুল (সা.) দীর্ঘ তেইশ বছরের সংগ্রাম সাধনা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা বলে একটি সুন্দর শান্তিময় রাষ্ট্র গঠন করেছেন। তাই ভাষণের শুরুতেই সবাইকে সজাগ ও সতর্ক করেছেন কোনোভাবেই যেন শান্তি বিনষ্ট না হয়। তিনি (সা.) বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের রব একজন। তোমাদের আদি পিতা একজন। প্রত্যেকেই আদমের সন্তান। আর আদম মাটির তৈরি। আল্লাহতায়ালা পারস্পরিক পরিচিতির সুবিধার্থে বিভিন্ন সমাজ ও গোত্রে তোমাদের বিভক্ত করেছেন। আরবের ওপর যেমন অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি অনারবের ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই আরবের। একইভাবে শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের আর কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব বা বৈশিষ্ট্য নেই। শ্রেষ্ঠত্ব, বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার একমাত্র ভিত্তি হলো তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির মধ্যে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে পৃথিবীর রাতগুলোকে যতই দিনের আলোর মতো জ্বলজ্বল করে তোলার চেষ্টা চলছে, ততই মানুষের অন্তঃকরণ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। পৃথিবীর সর্বত্র আজ হত্যা, লুণ্ঠন, ছিনতাই, সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। ভূলুণ্ঠিত মানবতা নিভৃতে কাঁদছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানের ব্যাপারে রসুল (সা.) বলেন, ‘হে লোক সকল! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্য চিরতরে হারাম করা হলো— যেমন আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহরে রক্তপাত করা হারাম বা নিষিদ্ধ।’ নারী অধিকার ও বৈষম্য রোধে রসুল (সা.) বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! নারীদের প্রতি নির্মম ব্যবহার করার সময় তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই তোমরা তাদের আল্লাহর নামে গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই কালেমার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে তোমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেনে রেখো, তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের সার্বিক কল্যাণ সাধনের বিষয়ে তোমরা আমার উপদেশ গ্রহণ করো।’ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য আজকের বিশ্বে নারী সমাজ কোথাও তাদের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা পাচ্ছে না।

একদল লোক ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। আরেক দল প্রগতির কথা বলে নারীদের প্রকৃত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। বর্তমান বিশ্বে শ্রমিক সমস্যা সবচেয়ে দুঃখজনক সমস্যা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রসুল (সা.) শ্রমনীতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের অধীনদের সম্পর্কে সতর্ক হও। তারা তোমাদের ভাই। তোমরা নিজেরা যা খাও তা তাদের খাওয়াবে। তোমরা নিজেরা যা পরিধান কর তা তাদের পরিধান করাবে। তাদের ওপর সাধ্যাতিরিক্ত শ্রমের বোঝা চাপিয়ে দেবে না। যদি কোনো কারণে চাপিয়ে দিতে হয়, তবে তুমিও তাতে অংশীদার হও।’

মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের ভিত মজবুত করা ও নিরপরাধ মানুষ হত্যা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে মহানবী (সা.) বলেন, ‘হে লোক সকল! শুনে রাখ, মুসলমান জাতি পরস্পর ভাই ভাই। আমার অবর্তমানে তোমরা পরস্পর মারামারি ও হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হয়ে কাফির হয়ে যেও না।’ সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ ঘোষণা করে মহানবী (সা.) বলেন, ‘জাহেলি যুগের সুদব্যবস্থা রহিত করা হলো। এ পর্যায়ে সর্বপ্রথম আমি আমার চাচা হজরত আব্বাসের সুদ মাফ করে দিলাম, আর সেই সঙ্গে গোটা সুদব্যবস্থা আজ থেকে রহিত করা হলো।’ অন্যের অর্থ আত্মসাৎ ও জুলুম-নির্যাতন সম্পর্কে সতর্ক করে রসুল (সা.) বলেন, ‘সাবধান! তোমরা জুলুম করবে না; আর কোনো মুসলমানের ধন-সম্পত্তি থেকে তার সম্মতি ছাড়া কোনো কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়।’ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ও তার ভয়াবহ পরিণাম উল্লেখ করে রসুল (সা.) বলেন, ‘সাবধান! ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ও সংঘাতের পথ বেছে নিও না। এই বাড়াবাড়ির ফলেই অতীতে বহু জাতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।’ সবশেষে মানুষকে কোরআন আঁকড়ে ধরার নসিহত করে রসুল (সা.) বলেছেন— ‘আমি তোমাদের জন্য একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা এটিকে আঁকড়ে থাকবে, ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর এটি হলো আল্লাহর বাণী আল কোরআন। সহি মুসলিমের বর্ণনা এটি। অন্যান্য বর্ণনায় কোরআনের পাশাপাশি রসুলের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার কথা বলা হয়েছে।

পৃথিবীতে আজ সেই একই মুসলমান বাস করছে। তারা কী শ্রমের এবং শ্রমিকের ভাই হতে পারছে? সাদা-কালোর ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে কী বুকে আঁকড়ে ধরতে পারছে। কোরআনের কটি বাণীর প্রতিফলন ঘটছে মুসলমানের জীবনে! হায়! বিদায় হজের ভাষণ শুধু ভাষণ হয়েই বিরাজ করছে বই-পুস্তকের পাতায়। ফিরে ফিরে আসে হজ। ফিরে ফিরে আসে কোরবানি। কিন্তু বিদায় হজের ভাষণ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় না কোনো মুসলমান।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

হজ বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করার ইবাদত মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

হজ এমন এক ইবাদত যা বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করে। সব মানুষ এক আদম-হাওয়ার সন্তান এবং আল্লাহর বান্দা— এ সত্য তুলে ধরে। বছরে নির্দিষ্ট সময় মক্কা ও তার আশপাশের পবিত্র স্থানগুলো গমন, নির্দিষ্ট ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের নাম হজ।

এটা এমন এক ইবাদত যাতে শরীর, মন ও আত্মা সব একসঙ্গে অংশ নেয়। প্রত্যেক সামার্থ্যবান মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ। হজের সামর্থ্যের জন্য বড় ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। মক্কা পর্যন্ত ভ্রমণ ও থাকা-খাওয়ার পর্যাপ্ত অর্থ এবং ওই সময়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ থাকলেই বুঝতে হবে হজের সামর্থ্য আছে। জীবনে সুস্থ-সবল থাকতে হজ করতে রসুল (সা.) উৎসাহিত করেছেন। কারণ এর আনুষ্ঠানিকতা রুগ্ন ও বৃদ্ধ অবস্থায় পালন করা কষ্টকর। রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ঠিকভাবে হজ পালন করে তার পুরো জীবনের সব গুনা মাফ হয়ে যায়। হজ শুধু পবিত্র স্থানে গমন নয়। ভ্রমণের চেয়ে অনেক গভীর এর তাত্পর্য। হজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। এটা যে শুধু মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে চালু তা নয়। এটা ইবরাহিম (আ.)-এর সময় চালু হয়েছে। হজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়াও এর আর্থিক, নৈতিক ও সামাজিক তাত্পর্য রয়েছে। হজ মুসলমানকে আল্লাহর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত ও অনুগত হতে শিক্ষা দেয়। মানুষকে তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও মিশন স্মরণ করিয়ে দেয়! মানুষকে তার মৃত্যু, পুনরুত্থান ও জবাবদিহিতার কথা মনে করিয়ে দেয়। সারা দুনিয়ার মুসলমানের ভ্রাতৃত্ব জোরদার করে। হজে সবার পরনে এক পোশাক গোত্র-বর্ণ, অর্থ-বিত্ত ইত্যাদির ভেদ দূর করে। মুসলিম বিশ্বের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো। যেখানে নিজেদের মতামত ও ভালোবাসা বিনিময় করা যায়। ইবরাহিম (আ.) তার নির্বাসিত পরিবারকে দেখতে অন্তত দুবার মক্কা গিয়েছিলেন। প্রথম ঘটনায় সুরা বাকারার ১২৭-১২৯ নম্বর আয়াতে দেখা যায় ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) একসঙ্গে কাজ করে এক আল্লাহর প্রথম ইবাদতগাহ ‘কাবাঘর’ নির্মাণ করেন। তারা দুজন এই আল্লাহর ঘরের জন্য দোয়া করেন। সেই শহরের জন্য দোয়া করেন। তাদের দোয়ার ফলেই ওই শহরে শেষ নবী (স.) এর আবির্ভাব। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দেওয়ার ঘটনা। এ ব্যাপারে সুরা সাফ্ফাতের ৯৯-১১৩ নম্বর আয়াতে দেখা যায়, ইবরাহিম (আ.)-কে স্বপ্নে আল্লাহ তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে আদেশ করলেন। ইবরাহিম (আ.) তার পুত্রকে স্বপ্নাদেশের কথা বললে তিনি আল্লাহর ইচ্ছা পূরণে সানন্দে রাজি হয়ে যান। ইবরাহিম (আ.) পুত্রকে নিয়ে কোরবানি করতে মিনা নামক স্থানে যান। পথে শয়তান তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ইবরাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। ওই সময় আল্লাহর ফেরেশতা একটি দুম্বা নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আল্লাহ তার ত্যাগের ইচ্ছা কবুল করেছেন। পুত্রের বদলে দুম্বা কোরবানি দিতে আল্লাহ আদেশ করেছেন। ইবরাহিম (আ.) তখন আল্লাহর আদেশ পালন করেন। এ ঘটনার স্মরণে এখনো হাজীরা মিনায় পশু কোরবানি দেন। আল্লাহর এ আদেশ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে। আল্লাহ উক্ত আদেশের মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন তাঁর আদেশ মানুষের আবেগ, যুক্তি ও মানবীয় জ্ঞানের ঊর্ধ্বে কীভাবে স্থান দিতে হয়।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
see more

Posted in Article | Leave a comment