Mawlana Selim Hossain Azadi

কোরআনের গুরুত্ব মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

রাব্বি জিদনি ইলমা। হে আমাদের মহান রব, আমাদের জ্ঞান প্রজ্ঞা বাড়িয়ে দিন। যে জ্ঞান গ্রন্থ আপনি গ্রহবাসীর জন্য দান করেছেন। সে গ্রন্থ যেন আমরা নিজেরা পাঠ করে এর পাঠ উপযোগিতা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি। হে আমাদের রব, আমরা যদি এ দায়িত্ব সম্পন্ন না করতে পারি তাহলে আপনার নামের প্রশংসা এ দুনিয়ায় কে ছড়াবে? আমাদের আপনার জ্ঞান গ্রন্থের আলোয় আলোকিত বান্দা বানিয়ে দিন।

আল্লাহতাআলা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য কোরআনুল কারিম নামক একটি পথপ্রদর্শক গ্রন্থ দান করেছেন। উদ্দেশ্য হলোÑ মানুষ যেন এ গ্রন্থের আলোকে তার ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক জীবন পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু কালের বিবর্তনে অন্যান্য ঐশী গ্রন্থের মতো মানুষ এ মহান গ্রন্থকেও বিভিন্নভাবে পরিত্যাগ করেছে, এর শিক্ষা ভুলে গেছে। পবিত্র কোরআনের ওপর বিশ্বাসী দাবি করার পরও যারা কোরআন তেলাওয়াত করে না, কোরআন বোঝার চেষ্টা করে না, কোরআনের সমাজ কায়েমের আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে লড়াই করে না, তাদের বিরুদ্ধে রাসুল (সা.) কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আদালতে এক কঠিন মামলা করবেন। সুরা ফোরকানে আল্লাহতাআলা রাসুলের (সা.) মামলাটি এভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘আর রাসুল বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতি এ কোরআনকে পরিত্যক্ত করে রেখেছিল।’ (সুরা ফোরকান, ২৫:৩০।)

আলোচ্য আয়াতের আলোকে সব মুফাসসির একমত, কোরআনকে পরিত্যাগ-পরিত্যক্ত করা মহাপাপ। কোরআনকে পরিত্যাগ করা কয়েকভাবে হতে পারে। কোরআন অস্বীকার করা, কোরআন অবিশ্বাস করা, কোরআন সম্পর্কে সন্দেহ করা, কোরআন না পড়া, কোরআন শিখে ভুলে যাওয়া, কোরআনের অর্থ না বোঝা, কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা না করা, কোরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাধা প্রদান করাÑ এসবই কোরআন পরিত্যাগের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলের (সা.) একান্ত সেবক হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোরআন শেখার পর যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করল না, কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করল না বরং কোরআনকে ঘরের এক কোণে ঝুলিয়ে রাখল, কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে গলায় ঝুলন্ত কোরআন নিয়ে উপস্থিত হবে। কোরআন বলবে, হে আল্লাহ! আপনার এ বান্দা আমাকে পরিত্যাগ করেছে, পরিত্যক্ত করে রেখেছে। আপনি তার এবং আমার মাঝে ফায়সালা করে দিন। (কুরতুবি।)

প্রখ্যাত মুফাসসির হাফেজে হাদিস আল্লামা ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসির (রহ.) কোরআন পরিত্যাগের ব্যাখায় লেখেন, ‘কাফেরদের সামনে কোরআন তেলাওয়াত করা হলে তারা কোরআন শুনত না এবং অন্যকে শুনতেও দিত না। কোরআনের ভাষায়, ‘কাফেররা বলে, তোমরা এ কোরআন শোনবে না এবং এটা আবৃত্তি করার সময় হট্টগোল/শোরগোল সৃষ্টি করবে। তাহলে তোমরা বিজয়ী হবে। (সুরা হামিম সাজদাহ, ৪১:২৬।) এটা ছিল কাফেরদের কোরআন পরিত্যাগ করা এবং কোরআনের ওপর ইমান না আনা। কোরআনের সত্যতা স্বীকার না করা, কোরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা না করাও কোরআন পরিত্যাগের অন্তর্ভুক্ত। (ইবনে কাসির।)

প্রত্যেক মুসলমানই দাবি করে তারা কোরআন বিশ্বাস করে এবং ভালবাসে। কিন্তু কোরআনের সঙ্গে তাদের আচরণ দেখলে যে কেউ বলতে বাধ্য হবে, নিশ্চয়ই এরা কোরআনকে পরিত্যাগ করেছে। কোরআন এসেছে মানুষের জীবনকে বদলানোর জন্য। ‘বদলে যাও বদলে দাও’Ñ এটি কোরআনের স্লোগান। আল্লাহতাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে। (সুরা রা’দ, ১৩:১১।)

জীবনে অসংখ্যবার কোরআন খতম করেছে, কিন্তু অর্থসহ বুঝে একটি আয়াত কিংবা সুরা পড়া হয়নিÑ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলায় এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি। কে যেন রটিয়ে দিল অর্থ জানা ছাড়া কোরআন পড়লেও সাওয়াব পাওয়া যায়। সে থেকেই মানুষ সওয়াবের পেছনে ছুটছে নিরন্তর। তাদের জানানো হয়নি, কোরআন এসেছে বোঝার জন্য, চিন্তা-গবেষণার জন্য। কোরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা না করলে কেয়ামতের দিন প্রিয় নবীর মামলায় আসামি হয়ে মহাপ্রতাপশালী অসীম ক্ষমতাধর পর্যন্ত আল্লাহর আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কেরাআন পরিত্যাগের অপরাধে অপরাধী হয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। হে আমার মুমিন ভাই! আদরের বোন! আসুন আমরা কোরআন দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলাই। কোরআন শিখি, কোরআন বুঝি, কোরআন অনুযায়ী জীবন গড়ি। হে দয়াময়! কোরআনকে আমাদের জীবনপথের পাথেয় করে দিন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

প্রতিবেশীরাই আমাদের সবচেয়ে আপনজন মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

আল্লাহর ইবাদত কর। তার সঙ্গে কাউকে শরিক কর না। আর বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের দাস-দাসীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা : ৩৬)।

মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ প্রতিবেশী। তাই ধর্মে প্রতিবেশীর অধিকারকে অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। আধুনিক সমাজে প্রতিবেশীর বন্ধনকে সেভাবে দেখা হয় না যেভাবে ধর্ম দেখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখ নিয়ে আমরা ভাবি না। আবার আমাদের হাসি-কান্নাও প্রতিবেশীকে স্পর্শ করে না। আধুনিক বিশ্বে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যে— পাশাপাশি দুই পরিবার বসবাস করছে। একজনের বাড়িতে মরা কান্না, আরেকজনের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ। এ চিত্র দেখে কোনো এক জ্ঞানী মন্তব্য করেছেন, বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ। বলছিলাম, প্রতিবেশীর কথা। প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে এত জোর দিয়েছে যে, আমার মনে হয়েছে, প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার বানিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারি : ৬০১৪, মুসলিম : ২৫২৪)। প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো ব্যবহারকে ইমানের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছে ধর্ম। রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ইমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে (মুসলিম : ১৮৫)। অন্যত্র রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। (মুসলিম : ১৮৩)। প্রতিবেশীর খোঁজ না নেওয়াকে ইমানের পরিপন্থী কাজ বলে উল্লেখ করেছে ইসলাম। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি মুমিন নয় যে পেটপুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। (মুসনাদে আবু ইয়ালা ২৬৯৯, আল আদাবুল মুফরাদ : ১১২)। এমন অনেক প্রতিবেশী আছেন যাদের বাহ্যিক অবস্থা দেখে ভিতরের দুরবস্থা বুঝা যায় না। তাই সামর্থ্য ও সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের পাশে দাঁড়ানো হয় না। এ কারণে পবিত্র কোরআন তাদের ‘মাহরুম’ তথা বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের অধিকার। (সূরা জারিয়াত : ১৯) এক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য হলো নিজ থেকে তাদের খোঁজ-খবর রাখা এবং সাহায্যের ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করা, যাতে সে লজ্জা না পায়। এ জন্যই তো জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা বলে দেওয়া জরুরি নয় যে, আমি তোমাকে জাকাত দিচ্ছি; বরং ব্যক্তি জাকাতের যোগ্য কি না এটুকু জেনে নেওয়াই যথেষ্ট। আগে প্রতিবেশীদের মধ্যে রান্না করা তরিতরকারিসহ বিভিন্ন জিনিস আদান-প্রদান হতো। এতে করে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুন্দর সম্পর্কও বজায় থাকত। কিন্তু এখন আর এসব দেখা যায় না। অথচ রসুল (সা.) এর নির্দেশ হলো, ‘হে মুসলিম নারীগণ! তোমাদের কেউ যেন প্রতিবেশীকে হাদিয়া দিতে সংকোচবোধ না করে। যদিও তা বকরির খুরের মতো একটি নগণ্য বস্তুও হয়। (বুখারি : ৬০১৭)। প্রতিবেশীকে নিজের খাবারে শামিল করার পরামর্শ দিয়ে রসুল (সা.) প্রিয় সহচর আবু জর (রা.) বলেছেন, ‘হে আবু জর, তুমি তরকারি রান্না করলে তাতে ঝোল বাড়িয়ে দিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে তাতে শামিল কর। (মুসলিম : ২৬২৫)। প্রতিবেশী বিধর্মী হলেও তার সঙ্গে সদ্ভাব এবং হাদিয়ার আদান-প্রদান চালু রাখতে হবে। তাবেয়ি মুজাহিদ (রহ.) বলেন, একবার আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর কাছে ছিলাম। তার চাকর একটি বকরির চামড়া ছাড়াচ্ছিল। তিনি চাকরকে বললেন, তোমার এ কাজ শেষ হলে সর্বপ্রথম আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে দিবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন। আপনি ইহুদিকে আগে দিতে বলছেন! তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি রসুলকে (সা.) প্রতিবেশীর অধিকারের বিষয়টি এত বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে শুনেছি যে, আমাদের মনে হয়েছে, প্রতিবেশীকে মিরাসের হকদার বানিয়ে দেওয়া হবে। (আল আদাবুল মুফরাদ : ১২৮, শরহু মুশকিলিল আছার : ২৭৯২)।

প্রতিবেশীর দুঃখকে নিজের দুঃখ মনে করতে হবে। তবেই একজন মুসলমান আমলিয়াত ও আধ্যাত্মিকতায় অনেক ওপরের স্তরে পৌঁছতে পারবে। এ সম্পর্কে জৌনপুরের আলা হজরত রশিদ আহমদ জৌনপুরী (রহ.)-এর জীবনী থেকে একটি ঘটনা শুনাচ্ছি। হজরতের একজন ভক্ত এসে বলছেন, হুজুর! আজ আমাদের মার্কেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক ঢুকে পড়ে। এতে কয়েকটি দোকানে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আল্লাহর শোকরিয়া আমার দোকান নিরাপদ আছে। ভক্তের কথা শুনে আল্লাহর ওলি বললেন, ‘বাবা! তোমার কথা শুনে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.)-এর একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল। তিনিও খুব বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। একদিন মার্কেটে আগুন লেগে তার প্রতিবেশীর দোকানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু তার দোকানের কিছু হয়নি। তিনিও তোমার মতো মনে মনে শোকরিয়া জপছিলেন। এর ফলে তিনি লক্ষ্য করলেন তার ভিতরের নূর চলে গেছে। তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পারলেন, প্রতিবেশীর দুঃখকে নিজের দুঃখ না ভাবার কারণেই আল্লাহতায়ালা তার অন্তরের নূর সরিয়ে নিয়ে গেছেন। তখন তিনি আল্লাহর দরবারে খুব কান্নাকাটি করলেন। পরে তার নূর আবার ফিরে আসে।’ মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ের তওফিক দিন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

অন্যের দুঃখে দুঃখী না হলে মুসলমান হওয়া যায় না মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাগরিবের নামাজ পড়ে মসজিদে বসে আছি। বাইরে ঝুম বৃষ্টি। যারা ছাতা নিয়ে এসেছেন তারা ছাড়া আর কেউ বের হননি। অল্প আগেও বুঝতে পারিনি এমন বৃষ্টি হবে। তাহলে ছাতা নিয়েই বের হতাম। বৃষ্টিবন্দী মুসল্লিরা কয়েক ভাগে বিভক্ত। কেউ শুয়ে আছেন, কেউ মোবাইলে কথা বলছেন না হয় টিপছেন, আবার কেউ নিজেদের সঙ্গে গল্প করছেন। মুসল্লিদের বড় অংশ ইমান ও আমলের বয়ানে বসেছেন। একজন মুরব্বি আলোচনা করছেন। ‘প্রিয় দোস্ত-বুজুর্গ’! দেশের বিভিন্ন জেলায় বানভাসি মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগে দিন পার করছে। মহান আল্লাহর শোকরিয়া তিনি আমাদের ভালো রেখেছেন।’ আলোচনার এই পর্যায়ে আমার মোবাইল বেজে উঠল। চট্টগ্রাম থেকে একজন খ্যাতিমান বক্তা ফোন করেছেন। মাওলানার কথার সারসংক্ষেপ এরকম— একটু আগে ইসলামিক ইউনিভার্সিটির একটি বাস এক্সিডেন্ট করেছে। একজন ছাত্রী নিহত ও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আল্লাহর শোকরিয়া মাহমুদার কিছু হয়নি। সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। মাহমুদা বন্ধুবর মাওলানার একমাত্র কন্যা।

বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো আছি। গুলিস্তানের মোড়ে গত সপ্তায় বন্ধু আদিলের (ইনিও মাওলানা) মোবাইল ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু আমার বা আপনার কিছু হয়নি। তাই আমরা আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। ভাবতে অবাক লাগে! আমরা কি সত্যিই মুসলমান? যদি মুসলমান হয়ে থাকি তবে রসুল (সা.)-এর ঘোষণা কি মিথ্যা? হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘সব মুমিন একটি দেহের মতো। দেহের এক জায়গায় ব্যথা হলে যেমন অন্য জায়গায় তা অনুভূত হয়, তেমনি পৃথিবীর কোথাও কোনো মুমিন বিপদগ্রস্ত হলে সব মুমিন চিন্তাগ্রস্ত হবে।’ চোখের সামনে বিপদগ্রস্ত মুমিনকে দেখে নিজে শোকরিয়া আদায় করছেন যে মুসলমান, সেই মুসলমান সারা বিশ্বের মুমিনের ব্যথায় ব্যথিত হবেন কীভাবে? অন্যের দুঃখকে নিজের বলে গ্রহণ করতে না পারা কখনোই মুমিনের চরিত্র হতে পারে না। জ্ঞাননগরীর দরজা হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘মানুষের দুঃখ দেখে তুমি যদি তার বিপদে এগিয়ে না আস তবে মনে রেখ, তুমিও একদিন বিপদে পড়বে তখন কেউ তোমার কান্না শুনবে না।’

ইসলামের প্রথম দিকের অবস্থা সবারই জানা আছে। কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছে শোনামাত্রই তার ওপর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে আসত। সত্যের বিরোধীরা শান্তি সংঘের সদস্যদের ওপর সব রকম পৈশাচিকতা চর্চা করেছে। বাদ যায়নি রসুল (সা.)-ও। ব্যতিক্রম ছিল মাত্র একজন। উসমান ইবনে মাজউন (রা.)। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর আরব নেতা ওলিদ ইবনে মুগিরার নিরাপত্তায় ছিলেন। আল্লাহর ইবাদতে কোনো বাধা নেই তার। আমাদের মতো নামকাওয়াস্তে মুসলমান হলে উসমান ইবনে মাজউন (রা.) প্রতিদিন হাজার দানার তসবি আর রাতে হাজার রাকাত নফল নামাজ পড়তেন শুধু শোকরিয়ার জন্য। কিন্তু না, তিনি ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। তাই দীনি ভাইদের নির্মম নির্যাতনের মোকাবিলায় নিজের আয়েশি জীবন ভিতরে কুরে কুরে খাচ্ছিল তাকে। ‘শহীদের মেহরাব ওমর ইবনে খাত্তাব’ গ্রন্থকারের ভাষায়— ‘উসমান নিজের ভিতর অন্যরকম ছটফটানি অনুভব করছিলেন। মনে মনে বলছিলেন, হে আল্লাহ! একজন কাফেরের নিরাপত্তায় শান্তিতে থাকা আমার কাছে কত যে কষ্টের তা কোন ভাষায় ব্যক্ত করব? অথচ এদের হাতেই আমার সঙ্গীরা দিন-রাত নির্যাতিত হচ্ছে।’ উসমান ইবনে মাজউনের এ অস্থিরতা মনে মনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি চলে গেলেন ওলিদের কাছে। তাকে বলল, বন্ধু! তোমার দেওয়া নিরাপত্তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। কিন্তু আমি আর তোমার নিরাপত্তা নিচ্ছি না। এ কথা বলেই তিনি ওলিদের কাছ থেকে বের হয়ে পড়লেন। তখনো ওলিদের সীমানা পার হননি, এরই মধ্যে এক আল্লাহর দুশমন বিনা কারণে উসমানকে ঘুষি মেরে বসল। ঘুষির মাত্রা এত বেশি ছিল যে, সাইয়্যেদ ওমর তেলমেসানি (র.) লিখেন, এক ঘুষিতেই উসমানের একটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখে আরেক সাহাবি বললেন, ওলিদের নিরাপত্তাই তোমার জন্য ভালো ছিল। তার ওখানে থাকলে আজ তোমাকে চোখ হারাতে হতো না। উসমান বললেন, ভাই তোমাদের কষ্টে রেখে আমি সুখে থাকতে পারিনি। আমার ভালো চোখটির চেয়ে আল্লাহর কাছে অন্ধ চোখটির মর্যাদা অনেক বেশি। কারণ এটি তাঁর জন্যই খোয়া গেছে। এরপরও কয়েকজন কাফের এমনকি ওলিদ নিজে এসে তাকে নিরাপত্তার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু ইমানদীপ্ত উসমান তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আমার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসুল (সা.)-এর নিরাপত্তাই যথেষ্ট। বলছি পরের দুঃখে দুঃখী হওয়ার নাম ইসলাম। যিনি এমনটি হতে পারবেন না তার নিজেকে মুসলান মনে করার কোনো সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ আমাদের অন্যের কষ্টে ব্যথিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
see more

Posted in Article | Leave a comment

নারী হজযাত্রীদের যেসব বিষয় জানা জরুরি মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

হানাফি ও হাম্বলি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম শর্ত। মাহরাম না থাকলে অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তার ওপর হজ ফরজ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/১২৩।) কোনো মহিলা যদি মাহরাম ছাড়া হজ করে তবে হজ আদায় হয়ে যাবে কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফর করার কারণে গুনাহগার হবে। (হেদায়া, ১/২১৩।) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মাহরাম ছাড়া কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না এবং কোনো নারী মাহরাম ব্যতীত সফর করবে না। এক সাহাবি বলল, হে আল্লাহর রসুল (সা,)! আমার স্ত্রী হজ করতে যাচ্ছে আর আমি অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি। রসুল (সা.) বললেন, তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজে যাও।’ (সহি বুখারি, ১৭৪০; সহি মুসলিম, ৩১৩৬।) শাফেয়ি ও মালেকি বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম শর্ত নয়, শর্ত হলো তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া। সফরের পথ যদি নিরাপদ হয় তবে মাহরামহীন একজন মহিলা একদল মাহরামওয়ালী মহিলার সঙ্গে হজে যেতে পারবেন। (আল উম্ম, ২/১২৭।) আদি ইবনে হাতেম (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আদি! তোমার জীবনকাল যদি দীর্ঘ হয়, তুমি অবশ্যই দেখতে পাবে, ইরাকের হীরা অঞ্চল থেকে একজন মহিলা একাকী উটের হাওদায় বসে কাবা তওয়াফ করবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাবে না।’ (সহি বুখারি, ৩৪০০; সহি মুসলিম, ২৮৯৪।)

মহিলাদের জন্য স্বামীর অনুমতি শর্ত নয়। তবে সব কাজে স্বামীর অনুমতি নেওয়া ও পরামর্শভিত্তিক কাজ করা মুস্তাহাব। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা পরামর্শভিত্তিক কাজ কর’। (আলে ইমরান, ৩:১৫৯।) মাহরাম পাওয়া গেলে স্বামী অনুমতি না দিলেও হজ সম্পন্ন করা আবশ্যক। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোনো মানুষের আনুগত্য চলবে না। আনুগত্য তো কেবল ভালো কাজে। (সহি বুখারি, ৪৩৪০; সহি মুসলিম, ১৮৪০।) স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত অথবা তালাকের ইদ্দত পালনকারিণী মহিলার জন্য হজে যাওয়ার অনুমতি নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যাবে, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে।’ (সূরা বাকারা, ২:২৩৪।) ইদ্দত শেষ হলে পরের বছর (সামর্থ্য থাকলে) হজ করবে। (ফতোয়ায়ে রমিয়া, ৮/৬২-৬৩।) তবে হজের টাকা জমা দেওয়ার পরে স্বামী মারা গেলে সম্পদ রক্ষার্থে ও সম্পদের অপচয় রোধে একদল বিশেষজ্ঞের মতে, ইদ্দত অবস্থায় হজ করার অবকাশ রয়েছে। (দুররুল মুখতার, ৫/২৫।)

ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়িসহ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের মতে, হায়েজ ও নিফাসগ্রস্ত মহিলাদের ইহরাম বাঁধার আগে গোসল করা মুস্তাহাব। হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আসমা বিনতে উমায়স (রা.) যুলহুলায়ফা নামক স্থানে আবু বকরের পুত্র মুহাম্মাদকে প্রসব করলেন। রসুল (সা.) আবু বকরের মাধ্যমে তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। (সহি মুসলিম, ২৭৭৩।) গোসল করা সম্ভব না হলে বা অসুবিধা বোধ করলে অজু করবে। (আসান ফেকাহ, ২/১৬২।) হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় মহিলারা তওয়াফ ব্যতীত হজের অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। স্রাব শেষ হলে পবিত্র হয়ে তওয়াফ করবে। আর ওষুধের মাধ্যমে মাসিক বন্ধ রেখে হজ করাও জায়েজ। তবে এমনটি করা নিষ্প্রয়োজন। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১৫/৪৯১; ফাতহুল কাদির, ২/২৩৩; ফতোয়ায়ে রমিয়া, ৮/৮৭।)

ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট রঙের বা ধরনের পোশাক নেই। ভালোভাবে সতর ঢাকা যায় এমন পোশাকই মহিলাদের ইহরামের পোশাক। খুব রংচটে (যা অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে), আঁটসাঁট কিংবা পুরুষদের মতো পোশাক সর্বাবস্থায় মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ। (আসান ফেকাহ/১৬৩।) নিকাব দিয়ে মুখ ঢাকা ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, কোনো মুহরিম মহিলা মুখ ঢাকবে না। (সহি বুখারি, ১৮৩৮।) ইহরাম অবস্থায় মহিলারা গায়রে মাহরাম থেকে নিজেদের চেহারা সংরক্ষণ করতে পারবে। আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা ইহরাম বেঁধে রসুলের (সা.) সঙ্গে সফর করতাম। এ সময় আমাদের চেহারা খোলা থাকত। আমাদের পাশ দিয়ে কোনো পুরুষ অতিক্রম করলে মাথা থেকে চাদরের আঁচল টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার খুলে ফেলতাম। (সহি বুখারি, ১৮৩৩।) সব আলেম একমত, ইহরামের সময় মহিলা পুরুষের মতো ‘ইদতেবা’ (ইহরামের চাদরের মধ্যাংশ ডান বগলের নিচে এবং দুই মাথা বাম ঘাড়ের ওপর ফেলে রাখা) এবং তওয়াফ ও সায়ির সময় ‘রমল’ (ঘাড় উঁচু করে বড় কদমে দ্রুত বেগে চলা) করবে না। (তাহমিদু ইবনে আবদুল বার, ২২/৭৮।)

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

চল নামাজে চল বক্ষে পাবি বল মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম চমৎকার বলেছেন, ‘মসজিদে ওই শোনরে আজান/চল নামাজে চল/দুঃখে পাবি সান্ত্বনা তুই/বক্ষে পাবি বল।’ মুক্তি ও কল্যাণের পিপাসায় যারা তৃষ্ণার্ত তাদের এ আহ্বানে সাড়া দিতেই হবে। নামাজের জায়নামাজে দাঁড়াতেই হবে।

‘আর তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর।’ (সূরা বাকারা : ৪৩) পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা এভাবেই নামাজ কায়েমের নির্দেশ করেছেন। ইমানের পর একজন মুসলমানের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। নামাজ শরিয়তের আবশ্যিক ইবাদত ও দীনের মূল ভিত্তি। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রসুল, ২. নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, ৩. জাকাত আদায় করা, ৪. হজ করা ও ৫, রমজান মাসের রোজা রাখা। (বুখারি : ৮, মুসলিম : ২২, তিরমিজি : ২৬০৯।)

চলার পথে আমরা অনেক গুনাহ করে ফেলি এবং সাময়িক মোহে পড়ে মহান প্রভুকে ভুলে যাই। তাই আল্লাহতায়ালা মুমিনের দৈনিন্দন জীবনকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রুটিনে বেঁধে ফেলেছেন। বান্দা যদিও শয়তানের প্ররোচনায় সাময়িক সময়ের জন্য আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে, পরক্ষণেই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ হওয়া মাত্রই গাফিলতির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে পারবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একজন মুমিনকে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও বাড়ির সামনে যদি একটি নদী থাকে, আর ওই নদীতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কী তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবিরা বললেন, না। তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে না। রসুল (সা.) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দৃষ্টান্ত হলো এমন। (বুখারি : ৪৯৭, মুসলিম : ১৫৫৪।) অর্থাৎ দিনে পাঁচবার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুমিনের গুনাহগুলো ঝরে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন-মুসলমান অজুর জন্য মুখমণ্ডল ধৌত করলে পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে চোখের গুনাহ বের হয়ে যায়। দুই হাত ধৌত করলে পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে হাতের গুনাহ বের হয়ে যায়। দুই পা ধৌত করলে পা দিয়ে করা গুনাহ পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে বের হয়ে যায়। এমনিভাবে অজুর সময় সে যাবতীয় গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। (মুসলিম : ৬০০, তিরমিজি : ২।)

নামাজ বান্দাকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী করে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘ওয়াসজুদ ওয়াকতারিব- সেজদা কর আর আল্লাহর নিকটবর্তী হয়ে যাও।’ (সূরা আ’লা : ১৯।) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা সেজদার সময় তার মহান প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে।’ (মুসলিম : ১১১১, আহমাদ : ৯৪৬১।) একইভাবে নামাজের প্রতি অবহেলা আমাদের মহান আল্লাহ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। নামাজের প্রশ্নে উত্তীর্ণ হলে আখেরাতের সব মনজিলে উত্তীর্ণ হওয়া সহজ হবে। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজের হিসাব ভালো হয় তবে তার সব আমলই ভালো হবে। আর যদি নামাজের হিসাব খারাপ হয় তবে তার সব আমলই বরবাদ হবে। (তাবরানি আওসাত : ১৯২৯, সহি আত-তারগিব : ৩৬৯।) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের সংরক্ষণ করবে অর্থাৎ যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে কেয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে নামাজের সংরক্ষণ করবে না, তা তার জন্য নূর, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে না। তার হাশর হবে ফেরাউন, কারুণ, উবাই ইবনে খালফের সঙ্গে।’ আহমাদ : ৬৫৭৬, দারিমি : ২৭৭১।)

আপনার বিবর্ণ জীবন বর্ণিল করবে নামাজ। নামাজের মাধ্যমে প্রভুর কাছে হৃদয়ের সুখ-দুঃখ বলবেন আর প্রভু আপনাকে প্রশান্তিময় জীবন দান করবেন।

আল্লাহতায়ালার দরবারে সেজদা করে এক আল্লাহর আনুগত্যের প্রমাণ দিতে এক জীবনে বারবার জায়নামাজে দাঁড়াতে হয়। দাঁড়াতে হয় শান্তি, সফলতা ও কল্যাণের জন্য। অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির খোঁজে হয়রান আপনি। হে মানুষ! আসুন! নামাজের দিকে। জীবন-মরণের কল্যাণ এই নামাজে নিহিত। এ ছাড়া ভিন্ন কোনো পথে শান্তি সমৃদ্ধি, সুখ, প্রেম মিলবে না। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

হে তরুণ যৌবনেই হজ করুন মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর হজ আদায় করা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্য থেকে যারা এই ঘরে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তারা যেন এই ঘরের হজ সম্পন্ন করে। এটি তাদের ওপর আল্লাহর হক। আর যে ব্যক্তি এ নির্দেশ মেনে চলতে অস্বীকার করবে তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ বিশ্ববাসীর প্রতি মুখাপেক্ষী নন।’ (সূরা আলে-ইমরান : ৯৭।) অন্য ধর্মীয় বিষয়গুলোর মতো হজকেও আমরা উল্টা খাতে প্রবাহিত করে ফেলেছি। আমরা এ হজকে বুড়ো বয়সের ইবাদত বলে মনে করে নিয়েছি। তাই তো হজ কাফেলায় তরুণ হাজীর চেয়ে বৃদ্ধ হাজীর সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। হজের যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো কি তরুণ ছাড়া কারও পক্ষে শোভা পায়? এই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম যে মানুষটি হজ করেছিলেন, তিনি ছিলেন তরুণ। তরুণ ইসমাঈল-ই (আ.) সর্বপ্রথম বায়তুল্লায় হজ সম্পাদন করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তারুণ্যদীপ্ত ইমানের অধিকারী তারই পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)। ইমানের অগ্নিপরীক্ষায় বার বার উত্তীর্ণ ইসমাঈল মাতা তরুণী হাজেরাই (আ.) সর্বপ্রথম সাফা ও মারওয়া দৌড়িয়ে হজ কার্য সম্পাদন করেছিলেন। তারও অনেক আগে এই ঘরে ইবাদত করেছিলেন পৃথিবীর প্রথম তরুণ আদম (আ.)। যাকে আল্লাহ সৃষ্টিই করেছেন তারুণ্য দিয়ে।

ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি, আমাদের দেশ থেকে যেসব প্রেমিক হাজী মাবুদের ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য কালো গিলাফে ঢাকা সোনালি দরজার ঘরটিতে লাব্বাইকার গান গাইতে যান, তাদের অধিকাংশই বুড়ো বয়সের। আমাদের দেশের হাজীদের তুলনায় অন্যান্য দেশের হাজীরা যথেষ্ট তরুণ বয়সের। ‘যুব বয়সে গোনা কর, বুড়ো হলে হজ কর’- এটি যেন আমাদের দেশে নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। আমরা হজে যাই যৌবনের পাপ মাপ করানোর জন্য আর উন্নত মুসলিম বিশ্বের তরুণরা হজে যান যৌবনে পাপ না করার শপথ নেওয়ার জন্য। তাই দেখা যায় বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম দেশের নাগরিক হয়েও হরহামেশা আমরা এমন অনেক কাজ করে ফেলি যা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। ‘সন্তান কর্তৃক বাবা-মা খুন, এরকম বহু লজ্জাজনক কাজ আমাদের দিয়ে সংঘটিত হচ্ছে অহরহ। এর পেছনে মূল কারণ একটাই, আমাদের তরুণরা হয়ে পড়েছে কোরআনবিমুখ। কোরআন বলছে যখন তোমার সামর্থ্য আছে তখন হজ করে মাবুদের প্রেম রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নাও। কিন্তু আমরা এমন এক সময় হজ করি যখন আমাদের ছানি পড়া চোখে আল্লাহর সব রং ধূসর মনে হয়। হজ যদি হয় মাবুদের ঘরে সাদা কাফন গায়ে পেঁচিয়ে প্রেমের মরা মরে লাব্বাইকার জলে ভেসে থাকা, তবে এ দুঃসাহসী প্রেম অভিযান তো তরুণদের জন্যই।

আমাদের দেশে নানা যুব সমস্যা রয়েছে। চুরি, ডাকাতি, হত্যা, গুম, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, দুর্নীতিসহ হাজারো অপরাধের সঙ্গে জড়িত তরুণরা। এই তরুণদের অপরাধের জীবন থেকে ফিরিয়ে কোরানের জীবনে আনার ক্ষেত্রে হজের ভূমিকা অনন্য। তরুণরা হজে গিয়ে ধৈর্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, নামাজ ও ত্যাগ কোরবানিতে অভ্যস্ত হয়ে আসতে পারলে দেশে হাজারো যুব সমস্যা কমে যেতে বাধ্য। তরুণদের হজে উৎসাহিত করার জন্য সর্বপ্রথম সরকার এবং হজ এজেন্সিগুলোকে উদ্যোগী হতে হবে। তরুণদের জন্য বিশেষ ছাড়ে ‘আকর্ষণীয় হজ প্যাকেজের’ আয়োজন করা যেতে পারে। যেমনটি উন্নত বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো করে থাকে। মসজিদের খতিব ও ইমামরা তাদের খোতবা ও আলোচনায় তরুণদের উৎসাহিত করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য ও বিবৃতি প্রদান করতে পারেন। পরিশেষে বলতে চাই, সামর্থ্য থাকলে তরুণ বয়সে হজ সম্পাদন করাই উত্তম। আমাদের দেশের সমার্থ্যবান তরুণরা তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে হজে পাঠায় কিন্তু নিজেরা হজ করে না। তারা মনে করে, যখন তারা পিতা-মাতার মতো বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়বে, পিঠের কুঁজোর কারণে প্রেম ঘর কাবার দিকে চোখ মেলে তাকাতে পারবে না, তখন ‘দায়মুক্তির’ হজ করে আসবে। আমাদের তরুণরা জানে না, বুড়ো হওয়ার কারণে হজের অনেক আহকামই সঠিকভাবে পালন করা যায় না। তাই বলতে চাই, ‘হে তরুণ যৌবনেই হজ করুন’।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

আল্লাহর পৃথিবীকে সবুজ রাখা আমাদের দায়িত্ব মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

বৃক্ষ-লতাপাতা আর সবুজ-শ্যামল ভূমিময় হচ্ছে বেহেশত। আমরা কি পারি না আমাদের দেশটাকে সবুজ-শ্যামল করে গড়ে তুলতে। গাছ প্রকৃতির অপূর্ব শোভা। গাছহীন পৃথিবী মলিন। গাছ মানবসহ তাবৎ প্রাণিকুলের বন্ধু। গাছের অস্তিত্ব মানে প্রাণের অস্তিত্ব, প্রাণীর অস্তিত্ব। যে অঞ্চলে যত গাছপালা, সেই অঞ্চল তত বেশি প্রাণবন্ত। গাছ ধৈর্যের প্রতীক, ধীরস্থির সাধনার প্রতীক, জীবনের সার্থকতার প্রতীক। অঙ্গার বাতাসে মিশে থাকে, গাছ তা নিগূঢ় শক্তিবলে শোষণ করে নিজের করে নেয়। গাছপালা মানব জীবনবৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু। বরেণ্য সাহিত্যিক আহমদ ছফা লিখেছেন, ‘এই পুষ্প, এই বৃক্ষ, তরুলতা, এই বিহঙ্গ আমার জীবন এমন কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছে, আমার মধ্যে কোনো একাকিত্ব, কোনো বিচ্ছিন্নতা আমি অনুভব করতে পারিনে।’ গাছ ছাড়া বেঁচে থাকার উপায় নেই। গাছ থেকে পাওয়া অক্সিজেন আমাদের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। গাছ প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীক। ঝুঁকিহীন এক নিরাপদ বিনিয়োগ গাছ। সবুজ-শ্যামল নিসর্গ মূলত গাছকেই ঘিরে। গাছ আমাদের জীবনের ছায়া। তাই ‘গাছ লাগানো’কে ধর্ম উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করেছে। হাদিসের পরিভাষায় যাকে সদকায়ে জারিয়া নামকরণ করা হয়েছে। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান একটি ফলবান বৃক্ষের চারা রোপণ করে, আর এতে ফল আসার পর সে নিজে অথবা অন্য কোনো মানুষ তা থেকে যা ভক্ষণ করে তা তার জন্য সদকা (দানস্বরূপ), যা চুরি হয়, যা কিছু গৃহপালিত পশু এবং অন্যান্য পাখপাখালি খাবে, এসবই তার জন্য সদকা।’ (বুখারি ও মুসলিম)। গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পার যে, কেয়ামত এসে গেছে, আর তোমার হাতে একটি গাছের চারা আছে তার পরও তা লাগিয়ে দাও।’ প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে গাছ অবিকল্প ভূমিকা পালন করছে। এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে, বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ, পাশাপাশি চলছে নগরায়ণ, বাড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে সীসার পরিমাণ। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিরূপতায় আমরা মুখোমুখি হচ্ছি খরা, বন্যা, ঝড়, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের ভয়াবহ প্রতিকূলতার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে গাছ পালন করে উপকারী বন্ধুর ভূমিকা। গাছ সৃষ্টির এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার কথা উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি বিস্তৃত করছি ভূমিকে, স্থাপন করছি পর্বতমালা এবং তা থেকে উদগত করেছি নয়নপ্রীতিকর সব ধরনের উদ্ভিদ। এটি আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ। আকাশ থেকে আমি বর্ষণ করি উপকারী বৃষ্টি এবং তা দিয়ে আমি সৃষ্টি করি উদ্যান, শস্যরাজি ও সমুন্নত খেজুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর।’ (সূরা কাফ, আয়াত ৭-১০।) অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই লতা ও বৃক্ষ উদ্যানগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদবিশিষ্ট খাদ্যশস্য, জলপাই বাগিচা সৃষ্টি করেছেন। তারা একে অন্যের সদৃশ এবং বিসদৃশ। যখন গাছ ফলবান হয় তখন গাছের ফল আহার করবে। আর ফসল তোলার দিনে তার দেয় প্রদান করবে এবং অপচয় করবে না।’ (সূরা আনআম, আয়াত ১৪১)। ‘তারা কি জমিনের প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উত্কৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।’ (সূরা শুয়ারা, আয়াত ৭-৮)।

পৃথিবীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে বরফ গলে সমুদ্রে পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে মানুষ। এমনকি পৃথিবীর কোনো কোনো এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশেরও সেই ঝুঁকি রয়েছে। গাছ অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি রোধ করে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কমায় এবং শীতকালে বাড়ায়। গাছ ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী আলট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রতিরোধক হিসেবে মানুষের উপকার করে। প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ গাছ। এই সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। অকারণে আমরা গাছ কাটব না এবং শস্য নষ্ট করব না। জরুরি পরিস্থিতি তথা যুদ্ধের সময়ও রসুল (সা.) গাছ কাটতে নিষেধ করেছেন। সাহাবি ইবনে সাইদ (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মদিনার প্রত্যেক প্রান্তে সীমানা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যাতে গাছপালা মুণ্ডানো এবং কাটা না হয়। তবে যেগুলো উট খেয়ে ফেলে সেগুলো ছাড়া।’ (আবু দাউদ)। আল্লাহর সৃষ্ট এই পৃথিবীকে সুবজ রাখার দায়িত্বও আমাদের। কারণ আমরা আল্লাহর প্রেরিত প্রতিনিধি। তাই আমাদের উচিত বেশি করে গাছ লাগানো এবং অন্য মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা। যেদিন এ পৃথিবী সবুজে ভরে যাবে সেদিনই আমরা মাটির পৃথিবীতে জান্নাতের শীতল হাওয়া উপলব্ধি করতে পারব।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

বৃষ্টি ঝরে রবের রহমত হয়ে মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

রসুল (সা.) এর জীবন থেকে জানতে পারি, তিনি বৃষ্টিকে খুব ভালোভাবেই উপভোগ করতেন। প্রখ্যাত সাহাবি আনাস (রা.) বলেন, ‘আমরা রসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে থাকাকালে একবার বৃষ্টি নামল। রসুলুল্লাহ (সা.) তখন তাঁর কাপড় প্রসারিত করলেন যাতে পানি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসুল, আপনি কেন এমন করলেন? তিনি বললেন, কারণ বৃষ্টি তার মহান রবের কাছ থেকে এই মাত্রই এসেছে।’ (মুসলিম : ৮৯৮)। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা নামে রহমতের ধারা হয়ে। বৃষ্টি হলে প্রভুকে স্মরণের শিক্ষাও দিয়েছেন রসুল (সা.)। মা আয়েশা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বৃষ্টি নামতে দেখলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিয়া’। অর্থাৎ হে আল্লাহ, উপকারী বৃষ্টি আমাদের ওপর বর্ষণ করুন।’ আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, রসুল (সা.) বলেছেন, বৃষ্টির সময় করা দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’

‘এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা, /গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন-ভরসা-

ঋতু বৈচিত্র্যের রবিঠাকুর আর নজরুলের দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে চলছে বর্ষাকাল। বর্ষার সুশীতল বর্ষণ প্রকৃতির সব চাওয়াকে তৃপ্ত করে। বাংলার প্রকৃতিতে নতুনরূপে সজ্জিত হয়ে নয়নাভিরাম শোভা নিয়ে শ্যামলী বর্ষা এসেছে। বর্ষার আগমনে খাল-বিল জলমগ্ন হয়ে গেছে। ব্যাঙেরা দল বেঁধে ডাকছে মেঘ হ মেঘ হ। শুরু হয়েছে নবজীবনের আনন্দমেলা। প্রকৃতির রানী বর্ষা এক আশ্চর্য উপভোগ নিয়ে হাজির হয়েছে। কী এক অফুরন্ত লীলা বৈচিত্র্য! গ্রীষ্মের নিমর্মতার পরিসমাপ্তি ঘটেছে বর্ষার কোমলতায়। শুরু হয়েছে অঝোরে বর্ষণ। কদম-কেয়া ফোটার সময় এ মাস। গ্রীষ্মের বিদায়ে প্রকৃতির শান্তির আভাস জানিয়ে দেয় কদম-কেয়া ফুল। হলুদ সাদা মিশ্রিত কদম ফুল যেন শান্তির বার্তা জানিয়ে দিতে এসেছে। শুধু কদমেই নয়, শাপলা ফুলেও এ হাসি শোভা পাচ্ছে। সরোবরে ফুটে আছে অজস্র শাপলা যেন উৎসব আনন্দে হাসিতে আত্মহারা। বর্ষায় কবিমন বিচিত্রতায় ভরে ওঠে। তাই কতই না কবিতা-ছড়া তার লেখনিতে প্রকাশ পায়। কদম-কেয়া-শাপলার স্নিগ্ধ হাসি ভাবুক কবিমন আন্দোলিত করে তোলে। ভাবের সঞ্চয় হয় তার মনে।

বর্ষার বর্ষণে মানব দেহ এবং চোখ জুড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানবাত্মায় প্রশান্তি ঝড়ারও কথা ছিল। বিশাল নীল আকাশ কীভাবে অশ্রু জড়াচ্ছে? এতে বনি আদমের জন্য কী শিক্ষা রয়েছে? এসব এখন আর ভাবার সময় পাচ্ছে না মানুষ। অথচ আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘তিনিই সে সত্তা, যিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য পানীয় এবং তা থেকে হয় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা জন্তু চরাও। তার মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য উত্পন্ন করেন ফসল, জয়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সব ফলফলাদি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা চিন্তা-গবেষণা করে।’ (সূরা নাহল : ১০-১১)। অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তিনিই আসমান থেকে বর্ষণ করেছেন বৃষ্টি। অতঃপর আমি এ থেকে উত্পন্ন করেছি সব জাতের উদ্ভিদ। অতঃপর আমি তা থেকে বের করেছি সবুজ ডালপালা। আমি তা থেকে বের করি ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা। আর খেজুর বৃক্ষের মাথি থেকে বের করি ঝুলন্ত থোকা। আর উত্পন্ন করি আঙ্গুর বাগান এবং সাদৃশ্যপূর্ণ ও সাদৃশ্যহীন জয়তুন ও আনার। চেয়ে দেখ তার ফলের দিকে, যখন সে ফলবান হয় এবং তার পাকার সময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য যারা ইমান আনে।’ (সূরা আনআম : ৯৯)।

প্রকৃতির এ বৈচিত্র্য নিয়ে চিন্তা গবেষণা না করার জন্যই মানুষ আজ যান্ত্রিক রোবটে পরিণত হয়েছে। হায় আফসোস! প্রকৃতি নিয়ে ভাবনা, বর্ষা, জোছনা উপভোগ করা, খোদার সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা বেমালুম ভুলেই গেছে মুসলমান। মুসলমান তরুণ আজ পড়ে আছে ফেসবুক, টুইটার নিয়ে। তারা বৃষ্টি ও জোছনা নিয়ে স্ট্যাটাস কমেন্ট করে ঠিক কিন্তু এর প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রকৃতির বৈচিত্র্য উপভোগ করা এবং এ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা। তবেই মহান আল্লাহ আমাদের আত্মায় তার নূর ঢেলে ইলহামী ইলম দান করবেন। আমরা হতে পারব প্রকৃতির মতো সুন্দর।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

মানবতার কাজ করাই প্রকৃত ইবাদত মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

অর্থনৈতিকভাবে এগোচ্ছে দেশ, শিক্ষার হার বাড়ছে। সার্বিকভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মানও বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক অঙ্গনে অশান্তি এবং অস্থিরতাও বাড়ছে সমানতালে। শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে সততা। আপাত ভদ্রলোক বাড়ছে, কমছে নিখাদ ভালো মানুষ। জনসংখ্যা বাড়ছে, কমছে ভালো মানুষ। আইন কঠোর হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও বাড়ছে; কমছে না অপরাধপ্রবণতা। মানুষকে ‘মানুষ’ হিসেবে জ্ঞান করতে না পারলে স্বাভাবিক নিয়মেই হারিয়ে যায় মানবিক মূল্যবোধ। চলে যায় প্রেম, ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা। নষ্ট হয় শান্তি-শৃঙ্খলা। শুরু হয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি। বর্তমান বিশ্বে যা হরহামেশাই ঘটছে। পত্রিকা ও টেলিভিশনের সংবাদ মানেই হত্যা, ধর্ষণ, গুম, খুন, রাহাজানি আর হানাহানি। চারদিকের অবস্থা পর্যালোচনা করলে মনে হয়, মানুষ এখন আর ভালো নেই। অবাক করা ব্যাপার হলো এতকিছুর পরও মানুষ দিব্যি ভালো আছে। কেন যেন মানুষের মাঝে মানুষের জন্য আফসোস নেই মমতা নেই; বুঝতে পারছি না। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ঠিকই বলেছেন। ‘মানুষ সামাজিক জীব নয় ব্যক্তিগত জীব। একশ মানুষের প্রাণহানির চেয়ে ব্যক্তিগত একশ ডিগ্রি জ্বর বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ বর্তমান সময়ের চিত্র তুলে ধরে হুমায়ূন আহমেদ লেখেন, ‘মানুষের দুরবস্থা এখন আর আমাদের আহত করে না। লঞ্চ ডুবে কিংবা বাস এক্সিডেন্টে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা দেখে আমরা শুধু ‘আহ’ বলে অন্য চ্যানেলে চলে যাই।’ এটি কখনোই প্রকৃত মুসলমানের চরিত্র হতে পারে না। প্রকৃত মুসলমান হতে হলে খোদার প্রতিটি সৃষ্টির জন্য হৃদয়ে দরদ থাকতে হবে। আত্মায় মানবতা থাকতে হবে। মানুষের দুঃখে দুঃখী হতে হবে। পল্লী কবি জসীমউদ্দীন চমৎকারভাবে বলেছেন,

‘সবার সুখে হাসব আমি

কাঁদব সবার দুঃখে

নিজের খাবার বিলিয়ে দেব

অনাহারীর মুখে।’

এই যে আমরা একের দুঃখে অন্যে দুঃখী হই না, এ জন্য আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে এখন অশান্তির আগুন জ্বলছে প্রত্যেক মানব হৃদয়ে। অবস্থা এমন হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে পাঁচজন মানুষ যখন একজন মানুষকে ছিনতাই করে তখন রাস্তার পাঁচ হাজার মানুষ নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত থাকে। অথচ দশজনও যদি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করত তবে দুষ্কৃতকারীরা পালানোরও জায়গা পেত না। বলছিলাম, শুধু নিজেকে বাঁচালেই চলবে না, প্রত্যেককে নিয়ে ভাবতে হবে। তাদের জন্য কাজ করতে হবে। এ ভাবনা আর এ কাজই মুসলমানদের নামাজ, রোজার পাশাপাশি পালন করতে হবে। বুঝতে হবে সকাল-বিকাল মসজিদে দৌড়ালেই ইবাদত হয় না। মানবতার কল্যাণে কাজ করাও ইবাদতের অংশ।

মানুষের কল্যাণে নিজকে নিয়োজিত রাখাই প্রকৃত ধর্ম ও ধার্মিকের কাজ। সহিহ মুসলিম থেকে দুটি হাদিস শোনাচ্ছি। হজরত তামীম দারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আদদ্বীনুন নাসিহা- অর্থাৎ ধর্ম হলো মঙ্গল কামনা করা।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল! কার জন্য মঙ্গল কামনা করব?’ রসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ, কিতাব ও রসুলের প্রতি ইমানের ব্যাপারে মঙ্গল কামনা করবে। আর প্রত্যেক মুসলমান, সাধারণ ও নেতাদের জন্য কল্যাণ কামনা করবে।’ (মুসলিম।)। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমি রসুল (সা.) এর কাছে নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদয় করা এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করার বাইয়াত-অঙ্গীকার করেছি।’ (মুসলিম।)।

যখন ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর জাগতিক স্বার্থ, বৈষয়িক উন্নতির চিন্তা প্রাধান্য পায়, তখনই মানুষের আত্মা থেকে পরকালে জবাবদিহির ভয় কমে যায়। এমন অবস্থায় মানুষ কেবল পাপাচারেই জড়িয়ে পড়ে না, মানবিক বোধটুকুও হারিয়ে ফেলে। বস্তুত পরকালের ভাবনা মানুষের কুপ্রবৃত্তি তথা নফসকে নিয়ন্ত্রণে করে। মানুষের ভিতর সুপ্রবৃত্তি ও সৎ গুণাবলি জাগিয়ে তোলে। যার ভিতর আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয় কিংবা পরকালের ভাবনা কাজ করে না, তাকে আইন দিয়ে নিবৃত্ত রাখা যায় না। মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে যুগে যুগে ধর্ম ও কল্যাণকামী মানুষের বড় ভূমিকা ছিল। ধর্মীয় অনুশাসনই মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সব যুগে সাহায্য করেছে।

পবিত্র কোরআনে মানবিক মূল্যবোধের বিপর্যয় রোধে মুসলমানকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান এভাবে করা হয়েছে— ‘ওয়াদাল লাজিনা আমানু মিনকুম ওয়া আমিলুস সোয়ালিহাতি লা ইয়াসতামলি কান্নাসুম ফিল আরদ’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তোমরা নেক কাজ করলে দুনিয়ার কর্তৃত্ব তোমাদের দেওয়া হবে।’ দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের সামগ্রিক বিপর্যয় রোধে কোরআনের বিধান ভালো করে বুঝতে এবং মানতে হবে। সত্যবাদিতা, সহিষ্ণুতা, মাধুর্যতা, তীক্ষ মেধাশক্তি ও শিষ্টাচারের মাধ্যমে মুসলমান একবিংশ শতাব্দীর অগ্রযাত্রায় নেতৃত্বের ভূমিকা নেবে। আল্লামা ইকবাল লেখেন, ‘সবক পড় ফের সাদাকাত কা ইতা আতকা আমানত কা কাম লিয়া যায়ে তুঝছে সারে দুনিয়া কি ইমামত কাণ্ড।’ অর্থাৎ সত্যনিষ্ঠা, আনুগত্য আর আমানতের সবক শিখে নাও, তবেই সারা দুনিয়ার নেতৃত্ব তোমাদের হাতের মুঠোয় আসবে।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
see more

Posted in Article | Leave a comment

স্রষ্টা ও সৃষ্টির সেতুবন্ধ তাহাজ্জুদ নামাজ মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

তাহাজ্জুদ নামাজ নফল নামাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ইবাদত। তাহাজ্জুদ নামাজ স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সেতুবন্ধ রচনা করে। তাহাজ্জুদের ফলে বান্দা আল্লাহর কাছে মর্যাদার অধিকারী হয়। বান্দার সব পাপ ও গোনাহ ক্ষমা প্রার্থনার উপযুক্ত মাধ্যমও এই তাহাজ্জুদ নামাজ। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত রসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতের শেষাংশে দুনিয়ার আকাশে বিরাজমান হন এবং ঘোষণা দেন যে, কোনো প্রার্থনাকারী আছ কি? যার প্রার্থনা আমি কবুল করব। প্রয়োজন প্রার্থনার কোনো লোক আছ কি? যার প্রয়োজন আমি পূর্ণ করে দেব। এবং কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দেব। আল্লাহ রাব্বুল হাশরের দিন সমগ্র সৃষ্টিকুলের উপস্থিতিতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী প্রিয় বান্দাদের মহান সম্মানে ভূষিত করবেন। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, কেয়ামতের দিন যখন আল্লাহপাক পূর্ববর্তী মানবসমাজকে একত্রিত করবেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আহ্বানকারী (যার আওয়াজ সমগ্র সৃষ্টিকুল শুনতে পাবে) দাঁড়িয়ে আহ্বান করবেন—হাশরের মাঠে সমবেত মানবসমাজ! আজ তোমরা জানতে পারবে যে, আল্লাহপাকের কাছে সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী কে? পরপর সে ফেরেশতা ‘যাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে’ এরূপ গুণের অধিকারী লোকদের দাঁড়াতে আহ্বান করবেন। এ আওয়াজ শুনে এসব লোক (তাহাজ্জুদগুজার) দাঁড়িয়ে পড়বেন, যাদের সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য। এদের হিসাব গ্রহণ ব্যতীতই বেহেশতে প্রেরণ করা হবে। অতঃপর অন্য সব লোক দাঁড়াবে এবং তাদের হিসাব নিবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, মাজহারি, মা’আরিফুল কোরআন)। তাহাজ্জুদের মর্যাদা অপরিসীম। ফরজ নামাজের পরে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। রসুল (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা এবং ফরজ নামাজের পর উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ’ (তাহাজ্জুদের নামাজ)। হজরত আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত রসুল (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে এমন কক্ষ থাকবে যার ভিতরের অংশ বাইরে থেকে এবং বাইরের অংশ ভিতর থেকে দৃষ্টিগোচর হবে।’ সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ (সা.) এসব কক্ষ কার জন্য? উত্তরে রসুল (সা.) বললেন, যে ব্যক্তি সালাম করে, ক্ষুধার্তকে আহার করায় এবং রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, তখন সে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে। (মুসনাদে আহমদ)।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাচ্ছিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
see more

Posted in Article | Leave a comment